সেই থেকে ডাক্তারি পড়ার আগ্রহ। নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পাশ করেন।
কিন্তু সেবার তরে এই হাসপাতালে তার চিকিৎসা কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামে মেডিকেল ক্যাম্প, হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা। এমনকি ভূমিকম্প দুর্গত নেপালের আর্তপীড়িত মানুষের পাশেও দাঁড়িয়েছেন তরুণ এই চিকিৎসক। ব্যাথায় কাতর মানুষের পাশে দাঁড়ানোতেই সুখ খুঁজেন তিনি। এজন্য মেডিকেল পড়ালেখায় ‘অর্থোপেডিক্স সার্জারি’ বেছে নিয়েছিলেন।
‘ইউনাইটেড মুভমেন্ট হিউম্যান রাইটস’-এ বছরের মানবাধিকার শান্তি পদক পেয়েছেন সিলেটের এই চিকিৎসক আল-মাহির ফেরদৌস। বুধবার (১০ মে) এসেছিলেন ঢাকায়। সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এ পুরুষ্কার তুলে দেন বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীন। তবে পুরুষ্কার অর্জন বা পাওয়া-নেয়ার চেয়ে চিকিৎসা সেবাটাই তার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগার বিষয়। সেটা সেই ছোটবেলা থেকেই।
এ যুগে ডাক্তারদের পেছনে গরীব মানুষের যেখানে হাজার হাজার টাকা খরচ হয় সেখানে এমন ব্যতিক্রম উদাহরণ দেখেই মানবাধিকার শান্তি পদকের জন্য তরুণ এ চিকিৎসককে বেছে নেয় ইউনাইটেড মুভমেন্ট হিউম্যান রাইটস।
বাংলানিউজকে ডা. আলমাহির বলছিলেন, ‘ছোটবেলায় নানা বাড়িতে থাকতাম। নানা ডাক্তার ছিলেন। প্রতিদিন সকাল হলেই নানা ভাইয়ের কাছে রোগীর লাইন দেখেছি। মানুষকে তিনি ইনজেকশন পুশ করছেন, ঔষধ লিখে দিচ্ছেন। ’
‘বাবাও পেশায় ছিলেন ডাক্তার। কিন্তু মায়ের শিক্ষকতা পেশার প্রতি আগ্রহ জন্মেছিল। তবে মানুষের কষ্ট দেখে প্রায়ই আমার মনে হতো ডাক্তারই পারে সবচেয়ে বেশি সেবার হাত বাড়াতে। সেই থেকে ডাক্তারি পড়ার প্রতি আমার আগ্রহ জন্মে। আর এখন ডাক্তারি পেশায় এসে অনুভব করছি মানুষ সৃষ্টিকর্তার পরেই ডাক্তারকে সবচেয়ে বেশি সম্মান ও বিশ্বাস করে’-বলছিলেন আলমাহির।
আলমাহির স্কুল জীবনে স্কাউট সদস্য ছিলেন। সমাজসেবার হাতেখড়ি হয়েছিল সেখানে। এটা এখন তার অনেকটা নেশার মতো। আর যেখানে তিনি ডাক্তার সেখানে এ নেশায় মত্ত হয়ে ছুটে চলছেন।
এখন প্রায়ই মেডিকেল ক্যাম্প করেন। যেখানে চিকিৎসা নেন পায় হাজার হাজার মানুষ। সবশেষে গত ২৬ মার্চ গোলাপগঞ্জে ক্যাম্প করে এক হাজার রোগী দেখেছেন। তার আগে তারাই একান্ত সহযোগিতায় নেপালে এক লাখ টাকার মেডিসিন নর্থ ইস্ট মেডিকেল টিমের সঙ্গে যায়। ২১ ফেব্রুয়ারিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষের চিকিৎসা দিয়েছিলেন। দুর্গম যেসব অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা এখন দুষ্প্রাপ্য সেখানে মেডিকেল ক্যাম্প করার ইচ্ছা তার। আর স্বপ্ন দেখেন ভবিষ্যতে নিজস্ব কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দিয়ে হাজার হাজার মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
আলমাহির বলছিলেন, ‘তাই ডাক্তার হওয়ার পর থেকেই আমার ভাবনা ছিলো যত বেশি পারা যায় গরীব ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা করা। এজন্য যখন কেউ আমাকে কোথাও বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলেন, সেখানেই আমি ছুটে যাই। ’
আলমাহির তার ডাক্তারি পেশায় আইডল মনে করেন অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিনকে (সার্জারি বিশেষজ্ঞ)। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম এফসিপিএস রুহুল আমিন। মাহির বলছিলেন, ‘স্যার প্রায়ই আমাকে বলেন যে তোমাকে এমনভাবে তৈরি করার চেষ্টা করেছি, যদি আমার গায়ে কোনো অপারেশন লাগে তা যেন তুমি করতে পারো। ’
ডা. মো. আলমাহির ফেরদৌসের গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার দাসগ্রামে। মা ফৌজিয়া সুলতানা লোদী, মাথিউরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালেয়ের প্রধান শিক্ষক। বাবা প্রফেসর ডা. এম এ কুদ্দুস অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।
বাংলাদশে সময়: ০৩১০ ঘন্টা, মে ১৪, ২০১৭
এসএ/এমআরএম/এসআরএস