ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৮ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

জোড়াতালি দিয়ে চলছে মাগুরা লাইব্রেরি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৫৭ ঘণ্টা, মে ১৩, ২০১৭
জোড়াতালি দিয়ে চলছে মাগুরা লাইব্রেরি মাগুরা লাইব্রেরি

মাগুরা: জনবল ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার সংকট এবং পাঠের উপযোগী পরিবেশ না থাকায় মাগুরা জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারমুখী হচ্ছেন না পাঠকরা। পাঠকক্ষে নারী ও শিশু পাঠকদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলেও তাদের উপস্থিতি হাতেগোনা।

মাগুরা পৌরসভার কলেজপাড়া এলাকার লাইব্রেরিটিতে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ৫টি পদের বিপরীতে ৩ জন জনবল দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে এর কার্যক্রম। নাইটগার্ড পদে কর্মরত এনায়েত হোসেনকে একইসঙ্গে লাইব্রেরি সহায়কের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

লাইব্রেরিয়ান থাকলেও দুই সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদ শূন্য। কর্মরত অন্যজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
 
এনায়েত হোসেন বাংলানিউজকে জানান, লাইব্রেরিতে দু’টি কম্পিউটারের একটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় অন্যটিও তেমন কাজে আসছে না।
ধূলায় নষ্ট হচ্ছে আসবাপত্র ও অকেজো হয়ে পড়ে আছে কম্পিউটার
তিনি মনে করেন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের সুব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল থাকলে পাঠকদের আগ্রহ বাড়তো। গণগ্রন্থাগারমুখী হতেন তারা।

পাঠকরা অনেকেই বলেন, লাইব্রেরিটির পরিবেশ পাঠের উপযোগী নয়। সিঁড়িঘরের একপাশে দৈনিক পত্রিকার পুরনো সংখ্যার বাধাই করা ভলিউমগুলো এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে।

লাইব্রেরিটিতে গল্প-উপন্যাস, ছড়া-কবিতা, প্রবন্ধ, জীবনী, ভ্রমণ কাহিনী, শিশুতোষ ইত্যাদি বইয়ের পাশাপাশি দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা রয়েছে।

লাইব্রেরিতে নারী পাঠকদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা থাকলেও তাদের উপস্থিতি একেবারে নেই। শিশু-কিশোর পাঠকও সামান্য দু’একজন। মজাদার নানা ধরনের বইও টানতে পারছে না তাদেরকে।

সারাদিনে পাঠকক্ষে সব বয়সী অল্প কিছু পাঠককে আসতে দেখা গেছে। তবে স্কুলের ছুটির দিন ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে অনেক বেশি বই পড়ুয়ার উপস্থিতি দেখা যায় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।  
মাগুরা লাইব্রেরি
পত্রিকা পড়তে আসা সুব্রত বিশ্বাস বাংলানিউজকে বলেন, শিশু-কিশোরদের স্কুলের পড়ার এতোটাই বেশি চাপ যে, তারা সময়ই পাচ্ছে না লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়তে। বাসায় গৃহশিক্ষক, কোচিং, হোমওর্য়াক, নাচ, গান আবৃত্তি, অভিনয়, চিত্রাঙ্কন ক্লাস তো আছেই, মোবাইলে ইন্টারনেট, টেলিভিশনের কার্টুন আর ভিডিও গেমস্‌ও লাইব্রেরি বিমুখ করছে তাদের।

লাইব্রেরিয়ান মনজুরুল আলম বাংলানিউজকে জানান, শিশু-কিশোরদের লাইব্রেরিমুখী করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের নিয়ে বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ০৩৫০ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০১৭
এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।