ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৮ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় পাঠক কমাচ্ছে পাবনা লাইব্রেরির!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১৩১ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০১৭
ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় পাঠক কমাচ্ছে পাবনা লাইব্রেরির! পাবনা জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের পাশেই ফেলা হচ্ছে পৌরসভা বর্জ্য

পাবনা: ময়লা আবর্জনা আর দুর্গন্ধে দিন দিন পাঠক শূন্য হয়ে পড়ছে পাবনা জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার। শহরের পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের লস্করপুরের গ্রন্থাগারটির পাশেই পৌরসভা বর্জ্য ফেলায় এমনটি হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

 

স্থানীয়রা জানান, গ্রন্থাগারের পাশে সড়ক বিভাগের ওই স্থানে বড় খাল ছিল। কয়েক বছর ধরে পাবনা পৌরসভা লস্করপুরের খালটিতে বর্জ্য ফেলা শুরু করে।

পুরো খালই এখন ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী ও পথচারীরা। আর ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের কারণেই গ্রন্থাগারেও পাঠকের যাতায়াত বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ডান পাশের বিশাল এ ময়লার ভাগাড়ে দলবেধে আবর্জনা ঘাটছে কাক ও কুকুরেরা। গন্ধের তীব্রতা ছড়িয়ে পড়েছে পাশেই বাগানে ঘেরা পাবনা সরকারি গণগ্রন্থাগারটিতেও।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী তামান্না সিদ্দিকা মিতু বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই সহায়ক বই পড়তে সরকারি গণগ্রন্থাগারে যেতে হতো। প্রথমদিকে ভালো পরিবেশ থাকলেও এখন তা নেই। প্রবেশমুখে ময়লার স্তুপের গন্ধে ভেতরে বসা যায় না। তাই এখন আর যাই না’।
পাবনা জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের পাশেই ফেলা হচ্ছে পৌরসভা বর্জ্য
পাবনা সিটি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শামসুর নাহার বর্ণা বলেন, ‘আমরা যখন শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন এই সরকারি গ্রন্থাগারে প্রতিদিন যেতাম। এটি অনেক পুরনো এবং বইয়ে সমৃদ্ধ।   বাংলাদেশের অনেক জেলায় যখন ভালো লাইব্রেরি ছিলো না, তখন পাবনার গ্রন্থাগারের কথা বলা হতো। আর এখন কোথায় এ লাইব্রেরি, অনেকেই জানেন না। কষ্ট হয়, ভালো একটি প্রতিষ্ঠানকে মানুষের চোখের আড়ালে রাখে কি কারণে? বই পড়ার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে আধুনিক কর্মসূচি নেওয়া উচিত’।

গ্রন্থাগারের পাশের চায়ের দোকানদার রইচ উদ্দিন বলেন, ‘পৌরসভা এখানে ময়লা ফেলার আগে অনেক লোকজন লাইব্রেরিতে আসতেন, বই পড়তেন, আমাদের বেচা-বিক্রিও ভালো হতো। ময়লা ফেলা শুরুর পর থেকে এতো দুর্গন্ধে তেমন কেউ আসেন না। আমাদের বিক্রিও কমে গেছে’।

গণগ্রন্থাগারের সহকারী লাইব্রেরিয়ান আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রন্থাগারটি জেলা শহরের কিছুটা বাইরে থাকায় এমনিতেই পাঠক কম। তারপরও এ কর্মস্থলে আমি নতুন, এখনো বিষয়টি বুঝে উঠতে পারছি না। তবে আমার মনে হয়েছে, গ্রন্থাগারটি পরিকল্পনা অনুসারে সঠিক জায়গায় করা হয়নি। শহরের মধ্যে আরো একটি শতবর্ষী লাইব্রেরি থাকায় সরকারি গণগ্রন্থাগারটি এখানে করা হয়েছিল বলে শুনেছি’।
পাবনা জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের পাশেই ফেলা হচ্ছে পৌরসভা বর্জ্য
‘ময়লা-আবর্জনার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। আশা করি, খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে’।

গ্রন্থাগারটিকে আরো সুন্দর ও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে পাঠের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে বলেও জানান সহকারী লাইব্রেরিয়ান আজহারুল ইসলাম।

পাবনা পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু বলেন, ‘শহরের কয়েকটি জায়গায় ময়লা ফেলা হয়। পরে সেখান থেকে ময়লা স্থানান্তর করা হয়। আমি ইতোমধ্যে সেখানে ময়লা না ফেলার নির্দেশ দিয়েছি। যেহেতু অনেকদিন ময়লা ফেলা হতো, তাই অনেকেই এখনো সেখানে ময়লা ফেলছেন। তবে আমি পৌরসভার পক্ষ থেকে সেখানে পরিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছি’।

বাংলাদেশ সময়: ০৭২৫ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০১৭
এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।