ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৮ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

পাউবোর জবাবদিহিতা চান দিরাই-শাল্লার এমপি জয়া সেন

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৫৪৩ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০১৭
পাউবোর জবাবদিহিতা চান দিরাই-শাল্লার এমপি জয়া সেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের সহধর্মিনী, দিরাই শাল্লার বর্তমান সংসদ সদস্য জয়া সেন গুপ্ত/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

দিরাই (সুনামগঞ্জ) থেকে: শাল্লা থেকে দিরাই যেতে প্রথমে নৌকায় যেতে হয় শ্যামার চর। সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। সেখান থেকে সিএনজি কিংবা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে করে দিরাই। সময় লাগে ৪০ মিনিট।

দিরাই শহরের প্রাণকেন্দ্রে বিখ্যাত সেন মার্কেট। দিরাই-শাল্লার কৃতি সন্তান বাংলাদেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পারিবারিক বিপণি বিতান।

পাশেই তার পৈর্তৃক বাড়ি।

সন্ধ্যার একটু আগে দিরাই পৌঁছে জানা গেল, সেখানেই আছেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের সহধর্মিনী, দিরাই শাল্লার বর্তমান সংসদ সদস্য জয়া সেন গুপ্ত। দিরাই শাল্লার এমপি সুরঞ্জিত সেনের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন তার স্ত্রী জয়া সেন গুপ্ত।

৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় দিরাই শাল্লার উপনির্বাচন, আর হাওরাঞ্চল ডুবতে শুরু করে ১ এপ্রিল থেকে। সংসদ সদস্য হিসেবে ক্যারিয়ারের শুরুতেই দুর্যাগের প্রবল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন জয়া সেন।
প্রভাকর মিলন বাজার/ছবি:বাংলানিউজ

দিরাই শাল্লার মানুষের কাছে আগেই জেনেছিলাম, উপনির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর প্লাবনের শুরু থেকেই এলাকার মানুষের পাশে আছেন জয়া সেন গুপ্ত। প্লাবনের শুরু থেকেই গ্রামে গঞ্জে ঘুরে ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন তিনি।

সেন মার্কেটের পাশে বনেদি আমলের পুরোনো দোতলা বাড়ি সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের। উপরতলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করছিলেন জয়া সেন। খবর দেয়ার পর বসতে বলে নাস্তা পাঠালেন ফলমূল, সঙ্গে চা।

এবারের হাওরের অকাল ঢলে হাওরাঞ্চলের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি উপজেলা সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা। খালিয়াজুড়ি থেকে শাল্লা হয়ে দিরাই আসার পথে যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই চোখে পড়ে হাওরে প্লাবনের ক্ষতচিহ্ন।

শাল্লা উপজেলার বড় হাওর মূলত তিনটিই বরাম হাওর, ছায়ার হাওর এবং ভান্ডার বিল হাওর। এসব হাওরের ভেতরে কিংবা আশপাশ দিয়ে আছে আর বেশ কিছু ছোটোখাটো হাওর ও বিল। এবারের প্লাবনে হাওরগুলোর ফসল রক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে শুধু শাল্লা উপজেলাতেই তলিয়ে গেছে ২২ হাজার হেক্টর জমির ফসল। ক্ষতিগ্রস্ত ২৯ হাজার ২৩৪টি কৃষক পরিবার।

দিরাইয়েও আছে ছোট বড় নয়টি হাওর। বরাম, চাপতি, উদগল, কালিয়াকোটা, বাধালিয়া, ছায়া, হুরাম মন্ডুরী, দাভাঙ্গার হাওর এবং কাইচমা। এসব হাওরে এবার বোরোর আবাদ হয়েছিলো ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে তলিয়ে গেছে ২৬ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমির। ৩৫ হাজার কৃষক পরিবারের মধ্যে প্রায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত।  
স্থানীয় নেতা-কর্মীরা/ছবি: বাংলানিউজদিরাই-শাল্লার যখন এই হাল তখন মুখোমুখি হলাম এই আসনের এমপি জয়া সেন গুপ্তের সঙ্গে। তিনি জানালেন, তার নির্বাচনী এলাকায় প্রায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। তবে সরকারের তরফে যথেষ্ট ত্রাণ সরবরাহ আছে। তিনি নিজেই ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন বলে জানালেন। বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। উল্লেখ করলেন, প্লাবনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী এসে ঘুরে গেছেন শাল্লা।

আলাপে উঠে এলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রসঙ্গ। এবারের হাওরের ফসল রক্ষার বাঁধগুলো ভেঙ্গে যাওয়ার জন্য তিনিও দায়ী করলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতাকে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে জয়া সেন বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের কাছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো দায়বদ্ধতা কিংবা জবাবদিহিতা নেই। তারা কিভাবে কাজ করেন কোথায় কাজ করেন তা জানেন না এলাকার মানুষ এমনকি জনপ্রতিনিধিরাও।

জয়া সেনের মতে, হাওরে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হলে সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে পানি উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতা।

তিনি বলেন, আমরা জানি না পানি উন্নয়ন বোর্ড কার কাছে জবাবদিহিতা করেছে। যার জন্য এই বিপর্যয়টা হয়েছে। এগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ। পানি উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে হাওর এলাকায় এ ধরনের ট্রাজেডি চলতেই থাকবে।

বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ যারা দিরাই-শাল্লার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন জয়া সেনগুপ্ত।

হাওর অঞ্চলে এবার উঠে আসছে ইজারা প্রথা বাতিল করে উন্মুক্ত জলাশয়ের দাবি। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো জয়া সেনের।
প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের পুরানো বাড়ি/ছবি: বাংলানিউজহাওর ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাওরের জলমহাল ঘিরে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মহলের পেশীশক্তির দাপটের কথা। ‘ওয়াটার লর্ড’ বলে পরিচিত এই প্রভাবশালী মহলের দাপট ও দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ এমনকি হাওরে নিজেদের জমিতেও মাছ ধরতে নামতে পারেন না। ধানের আবাদ মার খাওয়ায় হাওরাঞ্চলের মানুষ অন্তত এবার হাওরগুলোতে মাছ ধরার সুযোগ চান।

এ ব্যাপারে জয়া সেন গুপ্ত জানালেন, বিষয়টি তাকেও কেউ কেউ তাকে জানিয়েছেন। এটি এককভাবে তার হাতে নয়। তবে এ ব্যাপারে তার পক্ষে যা যা করণীয় তিনি তা করবেন।

জয়া সেনের সঙ্গে কথা বলার আগে কথা হয় দিরাই উপজেলার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে কথোপকথনেও উঠে আসে দিরাই উপজেলার ক্ষয়ক্ষতি এবং ত্রাণ কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়। প্রায় সবারই একই কথা। কৃষকদের বাঁচাতে দিতে হবে সহজ শর্তে সরকারি ঋণ। এছাড়া বাড়াতে হবে সরকারি ওএমএস এর চালের সরবরাহ। তাহলেই কেবল এই বিপর্যয় থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে হাওরের মানুষ।

বাংলাদেশ সময়: ১১২৮ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০৭
আর‌আই/জেডএম/

**
হাওরে বাঁধ রক্ষার লড়াইয়ের বীর একজন বিধানচন্দ্র
** পাউবোর গাফিলতি-দুর্নীতিকেই দুষলেন ছায়ার হাওরের কৃষকরা
** কোমর ভাঙলো হাওরের ‘বড় গেরস্থদের’
** ‘ছাবনি’ ধানে বেঁচে থাকার সংগ্রাম রাজিয়া-নজরুলদের
** ‘দেহি যদি কিছু মেলে
** প্রতি ওয়ার্ড-পরিবারে ওএমএস-ভিজিএফ চান চেয়ারম্যান সোহাগ
** হাওরের জলে অপরূপ সূর্যাস্ত
** নাড়ি ছেঁড়া ধনে টান কৃষকের
** হাওর ডোবার দায় নিলেন না কিশোরগঞ্জের পাউবো কর্তারা
** সরকার হাওরবাসীকে খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখবে
** অকাল ঢলে ভাটির দেশে ‘অশনি সঙ্কেত’ এর পদধ্বনি

** হাওরের বুকে ‘কালবৈশাখী’ দর্শন

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।