ঘিলাছড়া ইউনিয়নে লিচুর বাগান তো আছেই, এমন কোনো বাড়ি নেই, যে বাড়িতে লিচু গাছ নেই। টিলা-পাহাড় অধ্যুষিত এ ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িই যেন এক-একটি লিচুর বাগান।
কিন্তু এবার ফলনই হয়েছিলো কম। যেটুকু হয়েছিলো সেটুকুও ঝরিয়ে দিয়েছে অকাল শিলাবৃষ্টি আর কালবৈশাখী ঝড়। অনেক গাছে এরইমধ্যে নতুন পাতা গজাতে শুরু করেছে।
তাই লিচুকে ঘিরে এবার গ্রামের মানুষ ও লিচু ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা নেই। বাদুড় তাড়ানোর জন্য গাছের ডালে নেই রশি দিয়ে ঝুলানো টিন কিংবা গাছের উপরিভাগে কারেন্ট জাল। রাতের আঁধারে গাছে গাছে জ্বলছে না বৈদ্যুতিক বাল্ব। নেই রাতের বেলায় বাদুড় তাড়াতে টিনের শব্দ। এমনকি রাত জেগে পাহারাও নেই।
চাষিরা জানান, লিচু গাছ সবার বাড়িতেই আছে। কিন্তু লিচুর ফলন না হওয়ায় এবার ব্যস্ততা নেই। লিচু না আসার পেছনে অনেকে প্রকৃতির খেয়ালকে দায়ী করেন।
চাষিদের মতে, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে এ বছর লিচুর ফলন হয়নি। শিলাবৃষ্টিতে লিচুর মুকুল নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান ইউনিয়নের বড়টিলা এলাকার আসলাম মিয়া। তিনি বলেন, প্রতি বছর লাখ টাকার লিচু বিক্রি করলেও এবার গাছে লিচু নেই।
ইউনিয়নের বাদেদেউলী এলাকার জাকির হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, এবার বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর ফলন আসেনি। ১৬টি গাছের মধ্যে তিনটি গাছ এবার ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউনিয়নের আশিঘর গ্রামের আব্দুল জলিল বাংলানিউজকে বলেন, আমার বাড়িতে প্রায় অর্ধশত লিচু গাছ আছে। এবার কিছু কিছু গাছে লিচু এলেও মুকুল আসার সময়ে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঝরে গেছে। প্রতি বছর লিচু থেকে ১৫/২০ লাখ টাকা আয় করলেও এবার একেবারে শূন্য।
যুদিষ্টিপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য আজমল হোসেন বলেন, আমার বাড়ি টিলার উপরে। পানি আটকে না থাকায় প্রতি বছর লিচুর ফলন ভালো হয়। কিন্তু এ বছর লিচুর ফলন আসেনি। বরং গাছে গাছে নতুন পাতা গজাচ্ছে।
সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, বিভাগের চার জেলায় ৫৮১ হেক্টর জমিতে লিচুর ফলন হয়। এরমধ্যে সর্বাধিক সিলেটের মৌলভীবাজারে ২৮৭ হেক্টর, সিলেটে ১২৮ হেক্টর, হবিগঞ্জে ১২১ ও সুনামগঞ্জে ৪৫ হেক্টর।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সিলেটের উপ পরিচালক ড. মামুনুর রশিদ বাংলানিউজকে বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এ বছর লিচুর ফলন হয়নি। কিছু গাছে মুকুল এলেও ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঝরে গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে পরিচর্যা করলে লিচু আসার সম্ভাবনা ছিল।
বাংলাদেশ সময়: ১৪২৮ ঘন্টা, মে ১৪, ২০১৭
এনইউ/আরআর/জেডএম