রোববার (১৪ মে) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাংলানিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারের শুরুতেই এ কথা বলেন খুলনার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আমিন উল আহসান।
বৃহস্পতিবার (১১ মে) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ী ডিসি নাজমুল আহসানের কাছ থেকে খুলনা জেলার দায়িত্ব বুঝে নেন তিনি।
তিনি ১৩তম ব্যাচে বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে চাকরি জীবন শুরু করেন। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী তার নিজ গ্রাম। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। স্ত্রী ড. জোহরা সুলতানা রুনি হলেন ইডেন মহিলা কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর।
বৃহস্পতিবার যোগদান করলেও রোববার তার প্রথম কার্য দিবসে বাংলানিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি খুলনা নিয়ে তার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
এ সময় তিনি বলেন, খুলনায় আমি যোগদানের পর আমার সহকর্মীদের নিয়ে বসেছি। তবে এখনও খুলনার সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়ে বসিনি। আমি আমার সহকর্মীদের নিয়ে খুলনার সম্ভাবনা ও সমস্যা কি কি, কোন কোন বিষয়কে আমাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে তার একটি তালিকা তৈরি করবো। এর পর সিভিল সোসাইটির ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বসবো। আমি সবার মতামত ও বক্তব্য শুনে একটি প্লান করবো যে, আগামী এক বছরে কি করতে চাই। প্লানের মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেব এটা হলো আমার প্রথম পরিকল্পনা।
এর মধ্যে কোন বিষয়টিকে বেশি প্রাধান্য দেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুলনা জেলাতে বেশ কিছু কার্যক্রম চলমান আছে। যেমন পাইওনিয়র হিসেবে বলা যেতে পারে, খুলনা জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার একটা কর্মসূচি খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে চলছে। সেই কার্যক্রমগুলো কিন্তু এগিয়ে নিয়ে যাবো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তরুণ সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কিছু কার্যক্রম নেবো।
তিনি আরো বলেন, আমরা পর্যটন বলতেই বুঝি সুন্দরবন বা কক্সবাজার বা ঘাটগম্বুজ মসজিদ ইত্যাদি। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শিষের উপরে একটি শিশিরবিন্দু। ’ আমাদের বাড়ির আশেপাশে অনেক ইতিহাস-ঐহিত্য আছে। সেই জায়গাগুলোকে যদি আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস দিয়ে বুঝাতে পারি। বলতে পারি যে এই জায়গাটা এই। এই যে খুলনার গল্লামারী কিংবা চুকনগর, যে চুকনগরে ব্যাপক বড় গণহত্যা চালানো হয়। এই বিষয়গুলো, জায়গাগুলোতে আমরা যদি তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে যেতে পারি। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হাজির করতে পারি। তিনি যদি ছেলে মেয়েদের বোঝান। কোন ডকুমেন্ট যদি দেখাতে পারি। তাহলে এটা তাদের মধ্যে গেঁথে যাবে। আমি সেটা করতে চাই।
আমিন উল আহসান বলেন, সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে আমার কিছু প্লান আছে। সেটা আমি আমার সহকর্মীদের সাথে বসে করবো। পরবর্তীতে সেটা আপনাদের জানাবো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সম্পৃক্ত করে কিভাবে জনগণের সমস্যার সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে সরকার খুব গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই জিনিসটা আমি তুলে ধরার চেষ্টা করবো। মানসম্মত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে চাই। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করতে জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। এর জন্য মিডিয়াকে আমাদের সব সময় লাগবে। কারণ আমি একটি ভালো কাজ করলাম কিংবা একজনকে সাজা দিলাম তা মিডিয়ার মাধ্যমে সবাই জানতে পারবে। তখন ভালো কাজের প্রতি কেউ উৎসাহিত হবে বা অনেকে নিবৃত হবে।
নদী দখল ও ভূমি অফিসকে দালাল মুক্ত করতে কি ধরনের পদক্ষেপ নেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজকের আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা বিষয়টি দেখবো। ভূমি অফিস এখন ডিজিটাল হয়ে গেছে। সমস্ত ভূমি অফিস অনলাইনের আওতায় চলে যাবে। ভূমি অফিসে যাতে কোন দালাল না থাকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।
কেমন খুলনা রেখে যেতে চান এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিসি বলেন, স্কাউটস এর প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল এর একটি বাণী আছে,‘পৃথিবীকে যেমন পেয়েছো, তার চেয়েও আরো সুন্দর করে রেখে যাওয়ার চেষ্টা করো। ’ আমি চাইবো আমার এখানে জেলা প্রশাসক যিনি ছিলেন নাজমুল আহসান। আমার খুব ঘনিষ্ট বন্ধু। অত্যন্ত ভালো অফিসার। আমি বলবো, আমাদের ব্যাচের যদি কয়েকজন অফিসারের নাম বলি তিনি ওয়ান অফ দেম। আমার জন্য সৌভাগ্য যে তিনি খুলনাকে একটা ভালো জায়গায় রেখে গেছেন। আমি চাইবো আপনাদের সহযোগিতায় সেখান থেকে শুরু করে আরও ভালো কিছু করতে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৩ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০১৭
এমআরএম/জেডএম