সোমবার (১৫ মে) থেকে দেশব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।
রোববার (মে ১৪) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, মাঠ পর্যায়ে পাট অধিদফতরের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
২০১৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রথমে ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি মোড়কীকরণে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। বিধিমালা সংশোধন করে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আরও ১১টি পণ্যে (মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডাল, ধনিয়া, আলু, আটা, ময়দা, তুষ-খুদ-কুড়া) পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়।
‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন- ২০১০’ এর ১৪ ধারা অনুযায়ী, পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার না করে কৃত্রিম মোড়কে কোনো পণ্য মোড়কীকরণ বা অনুমতি দিলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
এ অপরাধ পুনঃসংগঠিত হলে সর্বোচ্চ দণ্ডের দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রশাসনের পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলেও হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ দেওয়ায় অভিযানে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
২০১৫ সালের ৩১ নভেম্বর থেকে গত বছরের প্রথম দুই মাসে বিশেষ অভিযানের ফলে পাটের মোড়ক ব্যবহারে শতভাগ সফল হয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অভিযানে একটি মানুষকেও জেল দিতে হয়নি, এক-দু’মাসের মধ্যে প্রায় শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছিল।
অভিযানে সহযোগিতার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান মির্জা আজম।
এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত পণ্য আমদানি-রফতানিতে পাটের মোড়ক ব্যবহার না করলে অনুমতি বাতিল, চাতাল মিল মালিকদের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে মনিটরিং টিম গঠন এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
পাটের ব্যাগ ব্যবহারে অনীহা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাটের ব্যাগে মোড়কীকরণ করতে গেলে পলিব্যাগের চেয়ে দাম বেশি। আমাদের বাস্তব উপলব্ধি নিয়ে আসতে হবে যে, কী ক্ষতিটা করছে। প্লাস্টিক ব্যাগের কারণে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, নদীর তলদেশ সিলড হয়ে যাচ্ছে। ঢাকা শহর বা জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ড্রেনেজ সিস্টেম কলাপস করে দিচ্ছে। পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
আইনের বাস্তবায়ন করে ৩৫-৪০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বাড়াতে পারলে আন্তর্জাতিক রফতানি নির্ভরতা থাকবে না বলে মনে করেন মির্জা আজম।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপে গত আট বছরে কৃষক পাটের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গতবছর ৭০ লাখ বেল পাট উৎপাদন হয়েছিল, প্যাকেজিং আইনের জন্য কৃষক উৎসাহিত হয়ে এবছর ১৫ লাখ বেল উৎপাদন বাড়িয়েছেন। আশা করছি এবার এক কোটি বেলের বেশি পাট উৎপাদনে যেতে পারবো।
এভাবে ভবিষতে পাটের উৎপাদন দ্বিগুণ হতে পারে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পাট অধিদফতর ও বিজেএমসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৬ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০১৭
এমআইএইচ/আরআইএস/এএ