রোববার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার জয়নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন, শাজাহানের স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৩৫), তার ছেলে রহমতউল্লাহ (১২), আবদুল মালেকের মেয়ে সুইটি (১৩) এবং একই বাড়ির ফয়েজ (১৮)।
এদিকে ঘটনার পর পরই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকাতুর স্বজনদের শান্তনা দিতে ছুটে যান যান এলাকার শত শত মানুষ।
পল্লী বিদ্যুতের ছেঁড়া তারের সঙ্গে জড়িয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকাবাসী জানান। তবে বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, কখন কিভাবে তারটি ছিড়ে পুকুরের সঙ্গে মিশে গেছে তা কেউ টের পায়নি। একে অপরকে বাঁচাতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনায় ঘটেছে বলে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
ভোলার সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার হাসপাতালে আনার পর তিনজন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলের দৌলতখানের উত্তর জয়নগর গ্রামের মুন্সি বেপারি বাড়ির ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সুইটি এবং একই বাড়ির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রহমতউল্লাহ পুকুরে গোসল করতে নামে। এ সময় আগে থেকে ওই পুকুরে বিদ্যুতের একটি তার ছেঁড়া অবস্থায় পড়ে ছিলো। এসময় গোসল করতে নামা মাত্রই বিদ্যুতায়িত হয় তারা। তাদের ডাক-চিৎকারে রহমানের মা সুফিয়া ছুটে এসে ছেলেকে বাঁচাতে পুকুরে ঝাপ দেন। কিন্তু তিনিও বিদ্যুৎতায়িত হন। তাদের তিনজনের করুন অবস্থা এবং পানিতে তলিয়ে যেতে দেখতে প্রতিবেশী ফয়েজ এগিয়ে এলে সেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাড়ির লোকজন তারটি পানি থেকে সরিয়ে ফেলে। এসময় আহতদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন বলেন, মৃতদের পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ২জনসহ ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় যেন শোকে স্তব্ধ জয়নগর গ্রাম। সেখানে মরদেহ দেখতে ছুটে যান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী।
ছেলে হারিয়ে মা, সন্তান হারিয়ে বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে পুরো এলাকার পরিবেশ। বেপারি বাড়িতে বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন নিহতের স্বজনরা। তাদের শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।
বাংলাদেশ সময়: ১৯২৪ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০১৭
আরএ/এসএইচ