ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৮ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

নলকূপের গরম পানিই রোগের কারণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪১৫ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০১৭
নলকূপের গরম পানিই রোগের কারণ নলকূপ দিয়ে গরম পানি বের হচ্ছে-ছবি বাংলানিউজ

কিশোরগঞ্জ: নলকূপ থেকে বের হচ্ছে গরম পানি। আর গ্রামবাসীরা এ পানিই পান করছেন। নতুন নলকূপ বসিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়ে এ পানিই পান করে যাচ্ছেন গ্রামবাসী। আর এতেই আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন রোগে।

ভয়াবহ এ চিত্র ধরা পড়েছে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার প্রত্যন্ত ধলা ইউনিয়নের কাওয়াখালী, ভেইয়ার কোণা, আজবপুর, সিকদার পাড়া, নয়াপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে। এসব এলাকার বিশেষ করে ধলা ইউনিয়নের ৫০টিরও বেশি নলকূপ থেকে বের হচ্ছে গরম পানি।

ভেইয়ার কোণা গ্রামের বৃদ্ধ (৮০) আব্দুল আশিদ বলেন, অনেকদিন ধরেই টিউবওয়েল থেকে গরম পানি বের হচ্ছে। আমরা এ পানিই পান করছি। আর এর পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা অসুখ বিসুখ।

ভেইয়ার কোণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযের পাশেই এ নলকূপ। এ নলকূপের পানিই পান করে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা চৈতি পাল বলেন, পানি শুধু গরমই নয়, দুর্গন্ধযুক্ত এবং সঙ্গে বালুও বের হয়। অন্য কোনোভাবে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় এ পানি পান করছে শিক্ষার্থীরা, আর আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগে।

স্থানীয় ধলা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বর সবুজ আহমেদ ভূইয়া বলেন, ধলা ইউনিয়নের ৫০টিরও বেশি টিউবওয়েল থেকে গরম পানি বের হচ্ছে। আমরা কি করবো সেটা ভেবে পাচ্ছি না। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শীতকালে এ পানি বেশি গরম থাকে। এ পানি পান করে গ্রামের মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
 
নলকূপ দিয়ে গরম পানি বের হচ্ছে-ছবি বাংলানিউজকিশোরগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এসব নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে। পানি পরীক্ষা করে তাতে মিথেন গ্যাস পাওয়া গেছে। সেজন্য নলকূপ থেকে পানি বের হওয়ার পর এক ধরনের গন্ধ বের হয়। এই পানি সঙ্গে সঙ্গে পান করা ক্ষতিকর।

এছাড়া প্রতি লিটার পানিতে ১ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম ম্যাংগানিজ পাওয়া গেছে। স্বাভাবিক পানিতে এ উপাদান থাকার কথা শূন্য দশমিক ১ মিলিগ্রাম। পানিতে মাত্রাতিরিক্ত ম্যাংগানিজ থাকায় পানি পিচ্ছিল।

পানিতে পিএইচের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৯ দশমিক ৮, স্বাভাবিক খাবার পানিতে যার পরিমাণ থাকে ৬ দশমিক ৮ থেকে ৭ দশমিক ৫। এ উপাদান বেশি থাকায় পানি হাতে-পায়ে বা শরীরে লাগলে চুলকায়। এ পানি পানে আলসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া স্বাভাবিক পানির তাপমাত্রা থাকে ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এসব নলকূপের পানি পরীক্ষা করে তাপমাত্রা পাওয়া গেছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এ কারণেই পানি নলকূপ থেকে বের হওয়ার পর অনেকটা ফুটন্ত পানির মতো গরম থাকে।

তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, দুর্গন্ধযুক্ত এ পানি পান করলে চর্মরোগ ও মস্তিষ্কের ক্ষতিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তোজাম্মেল হক বলেন, কম গভীরতা সম্পন্ন নলকূপ থেকেই গরম পানি বের হচ্ছে। ছোট পরিসরে পানি পরীক্ষা করে গ্যাস, খনিজ, পিএইচ ও তাপমাত্রা সাধারণ পানির চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে। উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ টিম দ্বারা শিগগির এ পানি পরীক্ষা করা হবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ২০০৫ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০১৭
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।