ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৮ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

বগুড়ার ২শ’ প্রাইমারি স্কুলে ভারপ্রাপ্তদের গুরুভার!

বেলাল হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০২৩২ ঘণ্টা, মে ১৬, ২০১৭
বগুড়ার ২শ’ প্রাইমারি স্কুলে ভারপ্রাপ্তদের গুরুভার! জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, বগুড়া/ছবি: আরিফ জাহান

বগুড়া: পদের দিক দিয়ে শামিমা আক্তার সহকারী শিক্ষক। বগুড়ার নন্দীগ্রাম পেং বনারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। এই বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষকের পদটি। শামিমা আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হয়ে পালন করতে হচ্ছে সেই দায়িত্ব।

এতে প্রায়ই তাকে প্রশাসনিক কাজে যেতে হয় উপজেলা সদরে। আর এর প্রভাব গিয়ে পড়ছে পাঠদান কার্যক্রমে।

শিক্ষক সংকটে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায়  পড়াশোনার ক্ষতির মুখে পড়ছে শিক্ষার্থী শিশু-কিশোর-কিশোরীরা।

বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষাকর্মকর্তার কার্যালয়সূত্র জানায়, এ জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ১হাজার ৫শ’ ৬৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন প্রায় ৮ হাজার ৭শ’জন। সাধারণ শিক্ষকদের বেশ কিছু সংখ্যক পদ শূন্য পড়ে আছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী প্রায় ৪লাখ ১৯হাজার ৭শ’ ৬৭জন।

সূত্রটি জানায়, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২শ’ টিরই প্রধান শিক্ষকের পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই খুঁড়য়ে চলছে শিক্ষা-কার্যক্রমসহ স্কুলের আর সব আনুষঙ্গিক কাজ। সবমিলিয়ে ভারপ্রাপ্তদের ভারে আক্রান্ত এসব বিদ্যালয়গুলো।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা-কর্মকর্তা মো. হোসেন আলী বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বাংলানিউজকে জানান, এক সময় জেলার অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ছিল। এখন সেগুলোর বেশি ভাগেরই পদ পূরণ করা হয়েছে। এখনো কিছু শূন্য পদ রয়ে গেছে অবশ্য। তবে সেগুলো পূরণের চেষ্টা চলছে।
 
এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা জানান, প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা সেকেন্ড ক্লাস করা হয়েছে। সহকারি শিক্ষকদের পদোন্নতি হলে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে। আগে জেলা থেকেই তাদের পদোন্নতি দেওয়া হতো। এখন পিএসসির মাধ্যমে তাদের পদোন্নতি দেওয়ার সিস্টেম চালু হয়েছে। একারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে সহকারি শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় পাঠদান কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে বলে স্বীকার করে নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা-কর্মকর্তা মো. হোসেন আলী আরো বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রায়শই প্রশাসনিক কাজে উপজেলা সদরে আসা-যাওয়া করতে হয়। এতে করে স্কুলে পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকের সংকট সৃষ্টি হয়। এর ফলে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।
 
গুলিয়া কৃষ্ণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায়ই উপজেলা সদরের শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যালয়ের পাঠদানের রুটিন পুরোপুরি মেনে চলা  সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ায় সমস্যা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাংলানিউজকে জানান, বিদ্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের অর্থ আসে। উন্নয়নকাজে এসব অর্থ ব্যয় করতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে ম্যানেজ করতে হয়। আর ভারপ্রাপ্ত হয়ে কোনো শিক্ষকই এই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে রাজি নন।

এছাড়া তারা অতিরিক্ত দায়িত্বপালন করার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর কাজটায় থেকে যাচ্ছে গলদ। এর বিরূপ পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। এমনটাই জানালেন শিক্ষকরা।

বাংলাদেশ সময়: ০৮২০ ঘণ্টা, মে ১৫, ২০১৭
এমবিএইচ/জেএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয় এর সর্বশেষ