ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৮ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

শেখ হাসিনার বর্তমান মেয়াদে তিস্তা সমস্যার সমাধান

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯৪০ ঘণ্টা, মে ১৬, ২০১৭
শেখ হাসিনার বর্তমান মেয়াদে তিস্তা সমস্যার সমাধান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু- ছবি- শাকিল

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান মেয়াদে তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ভারতের কোন রাজ্যের কোন মুখ্যমন্ত্রী, কে কী বললেন, এটা আমি গ্রাহ্য করি না। 
 
 

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের মূল্যায়ন বিষয়ে মঙ্গলবার (১৬ মে) সিরডাপ মিলনায়তনে এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
 
পানির ব্যাপারে একটি বিতর্ক রয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিস্তার পানির ব্যাপারে আমরা এবার সমঝোতা করতে পারিনি।

এ জায়গাটায় একটা সমস্যা আছে। সেখানে আমি বলবো, তিস্তা পানি বণ্টনের ব্যাপারে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি কী? সেখানে বাংলাদেশ-ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি কিন্তু এক জায়গায়।  
 
‘কী সেই জায়গাটা? ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী উভয়েই যৌথ ঘোষণায় বলেছেন, তিস্তার পানি বণ্টনে আমরা রাজি। যদি তিনি পানি বণ্টনে রাজি না হতেন, যে রকম আমাদের ৫৪টি নদী আছে, অন্য নদী সম্পর্কে আলোচনা হয়নি। তিস্তার ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদি যখন ঢাকায় এসেছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন, তিস্তার পানি বণ্টনে আমি রাজি। অর্থাৎ এটা শুধু চুক্তি করতে হবে আমাদের। চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করতে পারিনি। ’ 
 
তথ্যমন্ত্রী বলেন, পানি বণ্টন করতে হবে, পানি ভাগাভাগি করতে হবে। সেই ব্যাপারে নীতিগত একটা ঐকান্তিক সম্মতি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দিয়েছে। সেখানে আমি মনে করি না তিস্তা নিয়ে কোন বিতর্ক আছে, এখানে কোনো বিতর্ক নেই। বিতর্ক হচ্ছে এটাকে এখন কাগজে-কলমে নিয়ে যাওয়া এবং বাস্তবায়িত করা। সেইখানে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ একটা সময়সীমা বেধে দিয়েছে।
 
‘আমরা আশা করছি শেখ হাসিনার বর্তমান মেয়াদের মধ্যে তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়ে সমস্যার সমাধান করে দেবো। ’
 
ইনু বলেন, আমরা মনে করি, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ অঙ্গীকার এবং ঘোষণা, তিস্তার পানি নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। আমরা একমতে আছি, এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। আমরা পানি ভাগ করবো এবং উভয়ই সম্মত আছি।
 
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তিস্তার পানি বণ্টনের ব্যাপারে বিরোধিতা করে আসছিলেন।
 
এ প্রসঙ্গে ইনু বলেন, ভারতের কোন রাজ্যের কোন মুখ্যমন্ত্রী, কে কী বললেন, এটা আমি গ্রাহ্য করি না। কারণ আমরা দিল্লি সরকারের সঙ্গে কথা বলছি এবং দিল্লি সরকার অত্যন্ত বুঝে শুনে তিস্তার পানি বণ্টনের উপর কথা বলেছেন, ঐক্যমত প্রকাশ করেছেন। ’
 
গঙ্গা-ব্রক্ষ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে বাংলাদেশের পানির অপ্রতুলতা নিষ্পত্তি করার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ উল্লেখ করে ইনু মোদি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।  
 
তিনি বলেন, এ ব্যাপারটায় মোদি সাহেব যখন এখানে এসছিলেন, মনমোহন সাহেব যখন এখানে এসেছিলেন, আমাদের দ্বিপাক্ষিক যে সমঝোতা আছে তার মধ্যে এ জায়গাটা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটা একটা নতুন মাত্রা। আগে গঙ্গা ও তিস্তার পানি ভাগাভাগির কথা লেখা থাকতো।  
 
‘শুধু বাংলাদেশে নয়, নেপাল, ভুটান, ভারতে গঙ্গা-ব্রক্ষ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানি কম আছে, সেই পানির যতই ভাগাভাগি করি না কেন, আমিও খুশি হবো না, ভারতের রাজ্যগুলোও খুশি হবে না। একমাত্র পানি সম্পদের ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারি। নরেন্দ্র মোদি এবং শেখ হাসিনা উভয়ই অববাহিকার পানির ব্যবস্থাপনায় নজর দিয়েছেন এবং চুক্তির মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে কাজ করবেন। ’
 
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা।  
 
রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট আব্দুল মাতলুব আহমেদ।
 
বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, এফবিসিসিআই, নিটল-নিলয় গ্রুপ এবং দ্য পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।  
 
এতে বিভিন্ন কূটনৈতিক এবং ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৫৪০ ঘণ্টা, মে ১৬, ২০১৭
এমআইএইচ/জেডএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।