ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১, ০১ মার্চ ২০২৫, ০০ রমজান ১৪৪৬

জাতীয়

শেবাচিমের মেঝেতে শুয়ে অনাগত সন্তানের অপেক্ষা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪১৭ ঘণ্টা, মে ১৬, ২০১৭
শেবাচিমের মেঝেতে শুয়ে অনাগত সন্তানের অপেক্ষা বেডের অভাবে শেবাচিমের মেঝেতে রোগীরা-ছবি-বাংলানিউজ

বরিশাল: বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল। প্রতিদিন ২ হাজরেরও বেশি রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেন। রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় কাগজে-কলমে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি জায়গার পরিমাণ।

হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। তবে নতুন ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট ভবনের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালটিতে রোগীদের স্থান হয়েছে মেঝে।

বিশেষ করে গাইনি, মহিলা সার্জারি ও মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোর ভেতরে কোনো বেড খালি পাওয়া যায় না। ফলে রোগীদের জায়গা হচ্ছে মেঝ ও ওয়ার্ডের সামনের বারান্দায়।

ওয়ার্ডগুলোর দায়িত্বরত সেবিকারা বলছেন, প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আর এতে বেডের সংকট আরো প্রকট হচ্ছে।  

বেডের অভাবে শেবাচিমের মেঝেতে রোগীরা-ছবি-বাংলানিউজপ্রসূতির সার্বিক সেবা দিতে পারলেও জায়গা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। বেশিরভাগই জায়গা পাচ্ছেন মেঝেতে।

হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, গাইনি ওয়ার্ডের অনুমোদনকৃত শয্যা ৯০টি, যার অনুকূলে বেড রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। যেখানে প্রতিদিন ১১০ থেকে ১৫০ জন রোগী থাকেন, আর মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে অনুমোদনকৃত ৫৬ বেডে থাকেন ৯০ রোগী, মেডিসিন ওয়ার্ডে ৭২ বেডে থাকেন ২শ’ থেকে ৩শ’ রোগী।  

এর মধ্যে লেবার ওয়ার্ডের অবস্থা শোচনীয়। প্রসূতি মায়েদের জন্য আছে মাত্র ২৪টি বেড। বেডগুলো পূরণ হয়ে গেলেই অন্যদের জায়গা হয় মেঝে পাতা ম্যাট্রেক্সের ওপর। আবার অনেকের তাও জোটে না।  

বরিশালের সিঅ্যান্ডবি রোডের বাসিন্দা ও লেবার ওয়ার্ডের রোগী সুমি আক্তার (২৮) জানান, বেড না থাকায় হাসপাতালে তার জায়গা হয়েছে বারান্দার মেঝে। সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত বেড না পাওয়া গেলে মেঝেতেই থাকতে হবে।  

রহমতপুরের বাসিন্দা প্রসূতি রহিমা (২৫) বলেন, ওয়ার্ডে এসে জায়গা পাইনি, বারান্দায়ও না। ওয়ার্ডের বাইরে করিডোরে কোনোভাবে আছি।  

ইউনুস নামে রোগীর এক স্বজন জানান, মেঝেতে শুয়ে শুধু মায়েরাই না সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুরাও কষ্ট পাচ্ছে। বারান্দায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে রোগীদের থাকতে হচ্ছে। ওয়ার্ডের অবস্থাও শোচনীয়। বাথরুমসহ চারপাশ নোংরা ও দুর্গন্ধ। এতে নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে নবজাতকরা।  

বেডের অভাবে শেবাচিমের মেঝেতে রোগীরা-ছবি-বাংলানিউজমহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডেরও একই অবস্থা। সেখানে বয়স্ক রোগীরা বেশি কষ্টে রয়েছেন। ওয়ার্ডের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে চিকিৎসকদের রোগীর ভিড় ঠেলতে হয়।

হাসপাতালের পরিচালক এস এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্বল্প জায়গায় এতো রোগীর ভিড়ে ওয়ার্ডগুলো সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা দুষ্কর। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করে জায়গা বাড়ানো না হলে এ ধরনের সমস্যা প্রকট হবে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০১৭ ঘণ্টা, মে ১৬, ২০১৭
এমএস/আরআর/জেডএস
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।