ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১, ০১ মার্চ ২০২৫, ০০ রমজান ১৪৪৬

জাতীয়

মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ সচল রাখতে ৮ সুপারিশ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২৩৮ ঘণ্টা, মে ১৭, ২০১৭
মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ সচল রাখতে ৮ সুপারিশ

ঢাকা: সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখতে এর ভেতর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে বিকল্প নৌপথ মংলা-ঘষিয়াখালী সারাবছর সচল রাখার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ৮ সুপারিশও করেছেন তারা।

বুধবার (১৭ মে) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় সুপারিশগুলো তুলে ধরা হয়। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সভায় বক্তারা মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ খননসহ এর আশপাশের এলাকায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড, ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সমন্বয়হীনতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে মংলা-ঘষিয়াখালী নিয়ে দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধের দাবি জানান তারা।

শুরুতে ‘সংকটে মংলা-ঘষিয়াখালী, শঙ্কায় সুন্দরবন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ নৌপথে সারাবছর জাহাজ চলাচলের উপযোগী নাব্যতা সংরক্ষণসহ নদী ও নৌপথ সুষ্ঠুভাবে খননের স্বার্থে ৮ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সুপারিশগুলো হলো- পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প সংশোধন করে জোয়ারাধার নির্মাণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, প্রকল্পে উল্লেখিত ৮৩টি খালের সঠিক নাম ও এলাকাভিত্তিক প্রকৃত দৈর্ঘ্য নির্ধারণ, ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থে চলমান বক্স কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প বাতিল, বিআইডব্লিউটিএ’র মংলা-ঘষিয়াখালী খনন কাজ তদারকির জন্য নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ, বিআইডব্লিউটিএ’র ২৪ নৌপথ খনন প্রকল্পের বর্তমান পরিচালককে অপসারণ, মংলা-ঘষিয়াখালী এলাকায় স্টেট এমারজেন্সি ঘোষণা করে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সব সরকারি খালের অবৈধ বাঁধ ও পরিবেশবিনাশী চিংড়ির ঘের উচ্ছেদ, মংলা-ঘষিয়াখালী সচলকরণে গত চার বছরের কর্মকাণ্ড, অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নিশ্চিতকরণে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্ত শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ, সুন্দরবন ও নদ-নদীসহ প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য ক্ষতিকর সব ধরনের প্রকল্প বাতিল।

জাতীয় কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ শহীদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে।

আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুরুর রহমান সেলিম, পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, সিটিজেন্স রাইটস মুভমেন্টের মহাসচিব তুষার রেহমান ও উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্য সচিব আমিনুর, বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক পরিচালক এমদাদুল হক বাদশা, নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল প্রমুখ।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, আমরা চাই না সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল করুক। সুন্দরবনকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে নৌযান চলাচল বন্ধ করতে হবে। চালু রাখতে হবে বিকল্প চ্যানেল। সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে গেলে সুন্দরবন সৃষ্টি করা যাবে না।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩১ ঘণ্টা, মে ১৭, ২০১৭
এসকে/আরআর/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।