সেই আনন্দই যেন রঙিন আলোয় নৃত্য করলো ঢাকার আকাশে। বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যার পর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আনন্দ-উদযাপন অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে আতশবাজির আলোয় রঙিন হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) সারি থেকে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে বিশ্বসভায় উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনে এ আনন্দ-উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকেল সাড়ে ৫টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজনে প্রথমেই সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিশু শিল্পীরা। এরপর মঞ্চে নৃত্যনাট্য নিয়ে হাজির হন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির শিল্পীরা।
তারপর বাউল সংগীতে সমবেত পরিবেশনা নিয়ে আসেন বেশ ক’জন বাউলশিল্পী। সঙ্গে নৃত্যের তালে তালে উপস্থিত গ্যালারির দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা।
সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ভিভিআইপি গ্যালারিতে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। অতিথি সারিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার নাতি-নাতনিকেও দেখা যায়। ছিলেন তার বোন শেখ রেহানা, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আয়োজনের মূল পর্ব শুরু হয়।
এরপর দেখানো হয় উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের পথ পরিক্রমার ওপর করা তথ্যচিত্র, যেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন কর্মসূচি তুলে ধরা হয়।
তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী ধারণকৃত বক্তৃতায় বলেন, সবার অংশগ্রহণেই উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে, কোনো মতেই যেন এটা ব্যাহত না হয়, সেজন্য আমি সবাইকে অনুরোধ করছি।
এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার দেশে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার পর প্রধানমন্ত্রী আনন্দ-উদযাপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এরপর শুরু হয় লেজার শো। রঙিন আলোর রেখায় তুলে ধরা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা। ফুটিয়ে তোলা হয় বাংলাদেশের মানচিত্র ও তার ওপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মুখচ্ছবি ইত্যাদি। এরপরই শুরু হয় আতশবাজি। স্টেডিয়ামের আকাশে মুহুর্মুহু আতশবাজিতে মুগ্ধতায় ডোবেন গ্যালারির হাজারো দর্শক। গ্যালারির বাইরে থেকেও উপভোগ্য ছিল দুরন্ত এ আতশবাজি।
এ আয়োজনে উচ্ছ্বসিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহেলী আফরোজ বাংলানিউজকে বলেন, দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। সে আনন্দে এ আয়োজন। এর থেকে ভালো অনুষ্ঠান আর কী হতে পারে।
মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্দান্ত। এমন আতশবাজি আগে কখনো দেখা হয়নি। দেশের বাইরের বিভিন্ন আতশবাজির ভিডিও দেখলেও নিজ চোখে সরাসরি এমনটা এবারই প্রথম।
আতশবাজির খেলার পর অনুষ্ঠান মঞ্চে সংগীত পরিবেশনায় আসেন শফি মন্ডল, রুনা লায়লা ও মমতাজ। অতিথি সারিতে বসে মনোমুগ্ধকর এসব পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রীসহ আমন্ত্রিতরা।
বাংলাদেশ সময়: ২১০৮ ঘণ্টা, মার্চ ২২, ২০১৮
এইচএ/
আরও পড়ুন
** অগ্রযাত্রার স্বীকৃতির উদযাপনে স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী
** অগ্রযাত্রার স্বীকৃতির উদযাপন চলছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে
** উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে উদযাপন শুরু
** আনন্দ শোভাযাত্রার স্রোত মিলছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে
** আনন্দ শোভাযাত্রায় উৎসবের নগরী ঢাকা