তিনি বলেন, গুজব আদরের প্রিয় বোনের প্রাণ নিয়েছে। ফুটফুটে দু'টি ছেলে-মেয়েকে মা হারা করেছে।
নাজমা বলেন, দয়া করে কেউ গুজবে কান দেবেন না। যাচাই-বাছাই ছাড়াই কাউকে সন্দেহ কিংবা গণপিটুনির মত নিষ্ঠুরতা করবেন না। আমার বোনের মত এমন নিষ্ঠুরভাবে কারও যাতে প্রাণ না হারায়। জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া কেবল সন্দেহ করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অন্যায়; ছেলে ধরার মত কিছু আছে তা বিশ্বাস করবেন না; এসবই গুজব।
মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দুপুরে বাংলানিউজকে নাজমা এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বোনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিহত রেনুর বড় বোনের ছেলে মামলার বাদী সৈয়দ নাছির উদ্দিন টিটু বলেন, আমরা হুজগে বাঙালি। এ কালো টিপ আমাদের কপালে লেগে আছে। কালো টিপ মুছতে হবে। অন্ধকার ও কুসংস্কার থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
শনিবার (২০ জুলাই) সকালে রাজধানীর উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাসলিমা বেগম রেনুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে গুজবের কবলে পড়ে গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়। পরের দিন রোববার (২১ জুলাই) রাতে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানের বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে গুজব ছড়িয়ে রেনুককে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে স্থানীয়রা।
সকালে রেনুর জন্য পরিবারিকভাবে দোয়া, মিলাদের আয়োজন ও কবর জিয়ারত করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ২০০০ ঘণ্টা, জুলাই ২৩, ২০১৯
এসআর/আরবি/