ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৮ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

ফের পানি বেড়ে গাইবান্ধায় বন্দি ৬ লাখ মানুষ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০০৫ ঘণ্টা, জুলাই ২৫, ২০১৯
ফের পানি বেড়ে গাইবান্ধায় বন্দি ৬ লাখ মানুষ

গাইবান্ধা: উজানের ঢল আর দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি দ্বিতীয় দফায় বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এতে জেলার সাত উপজেলায় ৫১টি ইউনিয়নের ৪২৪টি গ্রাম ও ২টি পৌরসভার পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ।

বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩৫ সে. মি. এবং শহরঘাট এলাকায় ঘাঘট নদীর পানি ৬ সে. মি. বেড়ে বিপদসীমার ১৮ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বাংলানিউজকে জানিয়েছেন।

এদিকে, বাঙালি ও করতোয়া নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পৌরসভাসহ কয়েকটি গ্রামে নতুন করে পানি প্রবেশ করছে।

ঘাঘট নদীর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় গাইবান্ধা পৌর এলাকার বিভিন্ন এলাকার রাস্তা-ঘাট, বসতবাড়ি আবারও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া খোলাহাটি ইউনিয়নের পশ্চিম কোমরনই, চকমামরোজপুর, কাজীপাড়া, বাহারবন পশ্চিমপাড়া, সরকারপাড়ার কিছু অংশ এবং ডেভিড কোম্পানিপাড়ার পশ্চিম অংশে নতুন করে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, বন্যায় গাইবান্ধা থেকে বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন বন্যার পানি সরে না যাওয়া পর্যন্ত সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ত্রিমোহিনী রেল স্টেশন থেকে বাদিয়াখালী স্টেশন পর্যন্ত একাধিক পয়েন্টে রেললাইনের নিচের মাটি বন্যার পানিতে ধুয়ে গেছে এবং এ সমস্ত এলাকায় রেল লাইন ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে টানা আটদিন ধরে
লালমনিরহাট-সান্তাহার সব রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায়  যাত্রীদের দুর্ভোগের কবলে পড়তে হচ্ছে।

অপরদিকে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে। এখনও অনেক ঘরে পানি রয়েছে। তাই বাঁধসহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বানভাসি লোকজন এখনও ঘরে ফিরে যেতে পারছে না। গবাদি পশুর খাদ্য সংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং স্যানিটেশন সমস্যা প্রকট। ফলে জনগণকে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার সাত উপজেলার ৫১টি ইউনিয়নের ৪২৪টি গ্রাম ও ২টি পৌরসভার ৫ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৯ হাজার ৮৭০টি। তাদের বেশীরভাগই নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে এসে উঠছে। আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১৯৭টি। এছাড়া ১৪ হাজার ২১ হেক্টর আউশ ধান, আমন বীজতলা, রোপিত আমন, পাট ও শাকসবজি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন বাংলানিউজকে জানান, এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৫০ মে. টন চাল, ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৬ হাজার শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ সময়: ২০০০ ঘণ্টা, জুলাই ২৪, ২০১৯,
এসএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।