ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৮ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

৬ মাসে ঢাকার নদীতীরে ২৩৯ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১১৮ ঘণ্টা, জুলাই ২৫, ২০১৯
৬ মাসে ঢাকার নদীতীরে ২৩৯ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ/ফাইল ফটো

ঢাকা: চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পাঁচ হাজার ২৩৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে ঢাকার চারপাশে নদীর তীরভূমির প্রায় ১৪৫ দশমিক ১ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় নিলামের মাধ্যমে আট কোটি ৬৪ লাখ ৩৮ হাজার ৪০০ টাকা এবং জরিমানার মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে ২৭ লাখ ছয় হাজার টাকা।

বুধবার (২৪ জুলাই) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর নাব্যতা ও নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ, সুপারিশ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য গঠিত ‘টাস্কফোর্স’ এর প্রথম সভায় এ তথ্য জানানো হয়।  
 
সভায় জানানো হয়, অতীতে কোনো সময় নদীতীরে এরকম উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) গৃহীত নদীতীরে চলমান উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে ‘টাস্কফোর্স কমিটি। কমিটি উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানিয়েছে।  

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও টাস্কফোর্সের সভাপতি খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে নদীতীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ‘টাস্কফোর্স কার্যক্রম ভূমিকা রাখবে।  

উচ্ছেদ কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা করার জন্য তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় জানানো হয়, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর উচ্ছেদ করা তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ৫২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ১০ হাজার ৮২০টি সীমানা পিলার, বনায়ন, তিনটি ইকোপার্ক, ছয়টি পন্টুন, ৪০ কিলোমিটার কি-ওয়াল, ১৯টি আরসিসি জেটি, ৪০টি স্পার্ড ও ৪০৯টি বসার বেঞ্চ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে, যা ২০২২ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
 
সভায় আরও জানানো হয়, বিআইডব্লিউটিএ ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নদীর তীরের সীমানা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ৯ হাজার ৫৭৭টি সীমানা পিলার স্থাপন করেছে। এরমধ্যে ৩ হাজার ৮৫৫টি পিলার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিতর্কিত ২ হাজার ১১৪টি পিলারের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ নদীতীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৬১২ দশমিক ২২ একর জমি উদ্ধার করেছে।  

এর মধ্যে ঢাকার চারপাশে ৩৭৮ দশমিক ৬২ একর এবং নারায়ণগঞ্জে উদ্ধার করা হয়েছে ২৩৩ দশমিক ৬০ একর জমি। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ১৫ হাজার ৫৯২টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১২ হাজার ৪৭৮টি এবং নারায়ণগঞ্জে ৩ হাজার ১১৪টি।

সারা দেশের অভ্যন্তরীণ নদীর নাব্যতা বাড়াতে বর্তমানে সাতটি প্রকল্পের মাধ্যমে নদী খনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
 
খাগদোন, বিষখালী, কীর্তনখোলা, যাদুকাটা, রক্তি, রকশোনালা, কর্ণপাড়াখাল, লোহালিয়া, মনু, পিয়ান, আড়িয়াল খাঁ, ইছামতি, তালতলাখাল, পালং, নড়িয়াখাল, পুরাতন দুবালদিয়া, শীতলক্ষ্যা, কালিগঙ্গা, শৈদাহ, গাঘর, মধুমতি, কাচিকাটাখাল, পাড়কোনা, তুরাগ, কুমার,ধলেশ্বরী, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, তিতাস নদী, কংস, বাউলাই, সুরমা, মগড়া, পাগলা, বুড়ি, ভোগাই-কংস, নতুনডাকাতিয়া, বাঁকখালী, ভৈরব, আত্রাই, ভোলা, পালরদি, কর্ণতলী, পদ্মা, মেঘনা, গাবখানখাল, কর্ণফুলী নদীর চ্যানেল, পশুর নদীর চ্যানেল, কাজল-তেতুলিয়া নদীতে খনন কাজ চলমান রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, নৌ-সচিব মো. আবদুস সামাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  
 
বাংলাদেশ সময়: ২১০৩ ঘণ্টা, জুলাই ২৪, ২০১৯
এমআইএইচ/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।