ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৮ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

যমুনা-বাঙালিতে ডুবছে মাছচাষির স্বপ্ন

বেলাল হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩২৭ ঘণ্টা, জুলাই ২৫, ২০১৯
যমুনা-বাঙালিতে ডুবছে মাছচাষির স্বপ্ন জলাশয় রক্ষায় বিশাল ঘেঁর। ছবি: আরিফ জাহান

বগুড়া: যমুনা নদীর পানি কমে বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে বাঙালি নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমা ১০১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে যমুনা নদীর পানির সঙ্গে বাঙালির নদীর পানির লেভেল সমানতালে রয়েছে।

 

বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুরে বগুড়া পানি উন্নয়ন রোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
 
তিনি বলেন, যমুনার পানি ধীরে ধীরে কমলেও বাঙালি নদীতে পানি বেড়েই চলেছে।

বাঙালি নদীর পাশ দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকায় এই নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে যোগ করেন প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ।
 
তবে যমুনার পানি কমলেও কমেনি ভয়ার্ত গর্জন। হিংস্র যমুনার বুকজুড়ে উথলে উঠছে বিশাল বিশাল ঢেউ। ঢেউয়ের সঙ্গে পানি আছড়ে পড়ছে যমুনা তীরবর্তী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে। যমুনার উপচেপড়া পানিতে ডুবে গেছে ২২২টির মতো জলাশয়। পানির তোড়ে ভেসে গেছে এসব জলাশয়ে চাষ করা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ও মাছ।
 
যমুনা বেষ্টিত বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার এসব জলাশয় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৭৩ দশমিক ৯৭ মেট্রিকটন মাছ ও মাছের পোনা বেরিয়ে গেছে। এতে ক্ষতির পরিমান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
 
এদিকে বাঙালি নদীর পানি বাড়তে থাকায় গাবতলী ও শেরপুর উপজেলায় আরো প্রায় শতাধিক জলাশয় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির তোড়ে এসব জলাশয় থেকেও বিপুল পরিমান মাছ ও মাছের পোনা বেরিয়ে গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমানটা জানা যায়নি। সবমিলে যমুনা-বাঙালিতে ডুবছে মাছচাষির স্বপ্ন।
 
তবু ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত মাছ চাষিরা বসে নেই। এখনো জলাশয় রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষ অবধি যতটুকু মাছ ও মাছের পোনা রক্ষা করা যায়-এমনটা মাথায় রেখে জলাশয় রক্ষায় বিশাল ঘেঁর তৈরি করছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা। এক্ষেত্রে ছোট-বড় জাল, বাঁশ, দড়ি, জিআই তারসহ আনুষাঙ্গিক উপকরণ ব্যবহার করছেন তারা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলার মাছ চাষিরা।
জলাশয় রক্ষায় বিশাল ঘেঁর।  ছবি: আরিফ জাহান 
তাদেরই একজন চাঁন মিয়া তরফদার। সারিয়াকান্দি উপজেলার নিজবলাইল গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় পাঁচ বিঘা আয়তনের জলাশয়ে মাছ চাষ করতেন। রুই, মৃগেল, কাতল, সিলভার, বিগহেড প্রজাতির মাছ ছেড়ে ছিলেন। কিন্তু বন্যায় জলাশয় তলিয়ে সব শেষ হয়ে গেছে। এতে তার বেশ কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে যোগ করেন এই মাছচাষি।
 
মোসলেম উদ্দিন আরেক ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি বাংলানিউজকে বলেন, যমুনার তাণ্ডব যেন থামছেই না। বছরের পর বছর ধরে তাণ্ডব করেই চলছে যমুনা। বসতবাড়ি গিলেছে। আবাদি জমি তলিয়ে দিয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র, খাবার জিনিসপত্র সবকিছু যমুনার গর্ভে। মাছভর্তি একটি জলাশয় ছিল তাও ভাসিয়ে দিয়েছে।
 
তিনি বলেন, সবকিছুই চোখের সামনে ঘটেছে। জাল দিয়ে ঘেঁর বানিয়ে জলাশয় রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি। পানির তোড়ে জলাশয়ে মাছ ভেসে গেছে। এখন শুধু জীবনটা আছে। বাকি সবটাই হিংস্র যমুনা কেড়ে নিয়েছে।
 
তবে এসব এলাকার মাছচাষিরা এখনো ঘেঁর বানিয়ে জলাশয় রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ভেসে যাওয়ার পরও তো জলাশয়ে কিছু মাছ থাকতে পারে-এমন আশায় চাষিরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে বাংলানিউজকে জানালেন মাছ চাষি হরিশংকর।
 
সোনাতলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমদাদ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, এখন কতগুলো জলাশয় তলিয়ে গেছে এটা জানা সম্ভব। তবে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব জানতে বন্যার পানি নেমে যাওয়া অবধি অপেক্ষা করতে হবে।  
 
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, যমুনার পানি কমছে। অন্যদিকে বাঙালি নদীর পানি বাড়ছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সঙ্গে জলাশয়ও তলিয়ে মাছ ও মাছের পোনা বেরিয়ে যাচ্ছে। তাই জলাশয় ও মাছের ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসেব জানতে বন্যার পানি নেমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে সূত্রটি জানায়।
 
বাংলাদেশ সময়: ০৯২৫ ঘণ্টা, জুলাই ২৫, ২০১৯
এমবিএইচ/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।