জানা গেছে, প্রথমে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বুধবার (২৪ জুলাই) থেকে তাদের ১১ দফা দাবি আদায়ের জন্য লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করে। তবে এদিন বিকেল থেকে সিদ্ধান্ত হয়, যাত্রীদের কথা চিন্তা করে তারা যাত্রীবাহী লঞ্চ কর্মবিরতির আওতামুক্ত করেছেন।
কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, কোটি কোটি টাকার সম্পদ একটি লঞ্চ। আর সেই লঞ্চ ফেলে রেখে শ্রমিকরা মালিকদের কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ করেই কর্মবিরতিতে গেছে। অন্তত কর্মবিরতিতে যাওয়ার আগে আমাদের বলতে পারতো তাদের কি সমস্যা, তাও বলেনি। আর তারা প্রতিবার ঈদের আগে এমনটা করে। এরপর বিষয়টি জানার পরে মালিকরা বুধবার সকালে সরদঘাটে গিয়ে নৌ-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলারও চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা ভ্রুক্ষেপ করেনি। পরে যখন আমরা মালিকরা লঞ্চ পরিচালনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেই, তখন তারা লঞ্চে গিয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, ২০১৬ সালে শ্রম মন্ত্রণালয়, লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সভার সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমরা শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছি। আর ওই সিদ্ধান্তের মেয়াদকাল ২০২১ সাল পর্যন্ত রয়েছে। তারপরও এক শ্রেণীর শ্রমিক কথায় কথায় কর্মবিরতিতে যাচ্ছে।
শ্রমিকরা ইচ্ছা মাফিক কর্মবিরতির নামে লঞ্চ বন্ধ করে দেয় বিধায় মালিকরা লঞ্চ চালাবেন না বলে জানান রিন্টু।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকায় কেন্দ্রীয় মালিক সমিতির কার্যালয়ে পণ্যবাহী নৌযান মালিক ও লঞ্চ মালিকদের বৈঠক রয়েছে জানিয়ে সাইদুর রহমান বলেন, পণ্যবাহী নৌযান মালিকরা শ্রমিকদের নিয়ে সমস্যায় রয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের ফলে তাদের নৌযান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তাই সমস্যায় থাকা মালিকদের বৈঠক হবে। আর বৈঠকেই নতুন সিদ্ধান্ত আসবে।
এদিকে, দ্বিতীয় দিনের মতো লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। বিকল্প পদ্ধতিতে বাড়তি ভাড়া গুণে তাদের যেতে হচ্ছে গন্তব্যে।
বাংলাদেশ সময়: ১০২৮ ঘণ্টা, জুলাই ২৫, ২০১৯
এমএস/আরবি/