এবার সিলেটে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মশক মোকাবিলায় অ্যাকশনে নেমেছেন আরিফুল হক চৌধুরী। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) থেকে মশক নিধনে অভিযান শুরু হয়েছে নগরে।
এসব বিষয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী তার কার্যালয়ে বাংলানিউজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন। তিনি বলেন, সিলেটে এখনো ডেঙ্গু হয়নি, হবে না এটা বলা যাবে না। এজন্য আমাদের প্রত্যেকের বাসা-বাড়িতে, আঙিনায়, ডোবায় দীর্ঘদিন যাবত পানি জমে থাকলে সেগুলো পরিষ্কার করা, টবে-ফ্রিজের ঠাণ্ডা জাতীয় জায়গায় পানি জমে থাকলে তা পরিষ্কার রাখতে হবে।
তিনি বলেন, বাসা-বাড়ি সংলগ্ন কোথাও পরিত্যক্ত অবস্থায় পানি জমে থাকলে সিসিক কর্তৃপক্ষকে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে লোক পাঠিয়ে তা পরিষ্কার করা হবে।
মেয়র বলেন, নগরের মূল শহরের উপশহরে রাস্তার পাশে দীর্ঘদিন যাবত একটি নির্মাণাধীন ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে ২০-২৫ বছর ধরে পানি জমে বিষাক্ত হয়ে গেছে। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসককে বলেছি। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি, যদি মামলা থাকে, তাহলে তা নিষ্পত্তি না হলেও অন্তত উদ্যোগ নিয়ে পানি নিষ্কাশন করা দরকার।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু মশা নাকি সকালে এবং সন্ধ্যায় আক্রমণ করে থাকে। ডেঙ্গু বিস্তার হয়, এমন জায়গা চিহ্নিত করে প্রতিরোধে ওষুধ ছিটাতে হবে। তবে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, অতিবৃষ্টির সময় ওষুধ দিলাম, কিন্তু বৃষ্টিতে ভেসে চলে গেলো, তাতে লাভ হবে না।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতায় বৃহস্পতিবার থেকে প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের বলে দেওয়া হবে, যেন তারা মাইকিংয়ের পাশাপাশি মসজিদে-মন্দিরেও সচেতনতার প্রচারণা চালান। এছাড়া স্থানীয় সব গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ করেন মেয়র।
এদিকে, সারাদেশের মতো সিলেটেও বৃহস্পতিবার থেকে মশক নিধক ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ পালন করছে সিসিক। এ উপলক্ষে ২৫ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে একযোগে কর্মসূচি পালন করা হবে।
কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় নগর ভবন থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি করা হয়। র্যালিটি নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সকাল সোয়া ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এর পরপরই নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
সিসিকের জনসংযোগ দপ্তর সূত্র জানায়, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ উপলক্ষে সার্বক্ষণিক নগরবাসীর সেবা প্রদানে একটি নিয়ন্ত্রণ সেল গঠন করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সেলের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কর্মসূচি চলাকালে রোস্টার ডিউটি পালন করবেন। ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল হক (০১৭১২-৫৩২৪০৯), সংরক্ষণ পরিদর্শক মো. ফখরুল আহমদ ৯০১৭১৪-৬০৯৮২৯) নিয়ন্ত্রণ সেলের সার্বিক তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করবেন। এই সেলের অন্য সদস্যরা হলেন সিসিকের ডাটা অ্যান্টি অপারেটর রূপক চন্দ্র মালাকার, সুপারভাইজার সেলিম আহমদ ও এহসান আহমদ সায়মন।
কর্মসূচি চলাকালে মশার ওষুধ ছিটানো কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবগত করতেও নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৫ ঘণ্টা, জুলাই ২৫, ২০১৯
এনইউ/এইচএ/