সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে স্কুল-কলেজ হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় ধর্মীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন প্রচারণা চালাচ্ছেন পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য।
নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শাহ্জাহান মিয়া বাংলানিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, কুচক্রী একটি মহল পদ্মাসেতু নিয়ে পরিকল্পিতভাবে গলাকাটার গুজব ছড়িয়েছে। দেশের ভাবমূর্তি তথা শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিকে অস্থির করতেই এমনটি করেছে চক্রের সদস্যরা।
মূলত গলাকাটা গল্পটি কাল্পনিক ও সম্পূর্ণ মিথ্যা। মানুষের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেই গুজবটি ছড়ানো হয়েছে। আর পুলিশ সদস্যরা এখন সেই ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে দিতে সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
জনসাধারণের জন্য নিরাপত্তা জোরদার আছে বিষয়টি নিশ্চিত করতে জেলার সবগুলো প্রবেশদ্বারে ঘণ্টাব্যাপী বসানো হচ্ছে চেকপোস্ট। প্রতিটি চেকপোস্টে ন্যূনতম পাঁচজন পুলিশ সদস্য কাজ করছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা শাহ্জাহান আরও জানান, গুজবের বিষয়টিকে পুঁজি করে অপরাধীরা চমৎকার একটি সুযোগ নিচ্ছেন। নিরাপরাধ মানুষকে হয়রানিসহ গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলছেন। এর সঙ্গে যার শত্রুতা প্রতিশোধ গ্রহণে তারাও এখন সেই সুযোগটি লুফে নিচ্ছেন! আর মাঝখানে প্রাণ হারাচ্ছে আপনার আমার স্বজন।
তবে আমরা যদি প্রত্যেকে সচেতন হই গুজবকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া মুহূর্তের ব্যাপার। এই ব্যারিকেড ভাঙতে পাড়লে গণপিটুনিতে বেঘোরে কারো প্রাণ যাবে না।
গুজব প্রচারণাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। গণপিটুনিও একটি গুরুতর অন্যায় যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যারা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে গণপিটুনিতে অংশ নিয়েছে বা নিচ্ছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আসতে হবে।
সম্প্রতি ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহতা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে একজন সিভিল সার্জনসহ অনেকেই এই জ্বরে মারা গেছেন জানিয়ে শাহ্জাহান আরও জানান, মিথ্যে গলাকাটা গল্পের বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে পুলিশ ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কেও মানুষকে সচেতন করছেন।
শাহ্জাহান মিয়া এ পর্যন্ত যতো জায়গায় গুজব প্রচারণাবিরোধী কাজে গিয়েছেন প্রত্যেক জায়গায় মানুষকে নিজেদের বসবাস ও কর্মস্থলের আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ০৬১১ ঘণ্টা, জুলাই ২৬, ২০১৯
এএটি