ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৮ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

এহন কথা কওয়ার সময় নাই!

শফিকুল ইসলাম খোকন, উপজেলা করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮০৫ ঘণ্টা, জুলাই ২৭, ২০১৯
এহন কথা কওয়ার সময় নাই! অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের স্তুপ। ছবি: বাংলানিউজ

পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে: ‘ভাই এহন কথা কওয়ার সময় নাই, মাছ বেইচ্যা টাহা নিয়া বাড়ি যামু। আবার তাড়াতাড়ি সাগরে যাইতে অইবে।’ 

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে (বিএফডিসি) শনিবার (২৭ জুলাই) সকালে এমন কথাগুলো বলেন সাগর থেকে ফিরে আসা জেলে হাফিজুর ও আ. রহিম।  

কথা বলার জন্য তাদের কাছে গিয়ে প্রশ্ন  করা মাত্রই তারা বলেন, ভাই সময় নাই, পরে কমুয়ানে।

সাগর থেইক্যা  আইছি, সাগরে জমমের (খুব বেশি) মাছ। তাড়াতাড়ি আবার যাইতে অইবে। এক খেইয়ে অনেক মাছ পাইছি।  

বিএফডিসি মৎস্য বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গভীর সমুদ্রে থেকে আসা সারিবদ্ধ ট্রলার ঘাটে নোঙর করে আছে। কিছু ট্রলার  থেকে মাছ উঠাচ্ছে ঘাটের শ্রমিকরা, আবার অনেকগুলো ট্রলার  নোঙর করা রয়েছে।  

সারিবদ্ধভাবে  একের পর এক ঘাট শ্রমিকরা ট্রলার থেকে মাছ উঠিয়ে টলসেডে স্তুপ করে রাখছেন। সাগর থেকে ফিরে আসা জেলেদের সঙ্গে সঙ্গে ঘাট শ্রমিক থেকে শুরু করে ট্রলার মালিক এবং আড়তদারদের মুখে হাসি ফুটছে। এক কথায় পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এখন ঈদের আনন্দ বইছে।  

ইলিশ মৌসুমে দীর্ঘ অপেক্ষার পর গভীর বঙ্গোপসাগরে ২৪ জুলাই সাগরে যাত্রা শুরু করে জেলেরা। সাগরে যাওয়া মাত্রই জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। তবে পার্শ্ববর্তী নদীতে ইলিশ কম পাওয়া গেলেও সু-স্বাদু হওয়ায় এ মাছগুলোর দাম অনেক বেশি। এ নদীর মাছ প্রতিমণ বিক্রি হয় ৩০ হাজার টাকা দরে এবং গভীর সমুদ্র থেকে যে ট্রলারগুলো আড়তে ফিরে আসে সেসব ট্রলারের ৭ থেকে ৮শ’ গ্রামের ইলিশের প্রতিমণ বিক্রি হয় ১৮ হাজার টাকা  করে। আবার ৪ থেকে ৫শ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয় ১২ হাজার টাকা দরে। প্রায় ট্রলারই প্রতি ট্রিপে ৪ থেকে ৮ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করছে। এ ইলিশগুলো পাথরঘাটার মৎস্য আড়ৎ থেকে রপ্তানিকারকরা ট্রাকে করে দেশের বিভিন্নস্থানে বাজারজাত করছেন।

পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১৭০টন মাছ বিক্রি হয়েছে যা থেকে এ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৩৩০ টাকা।  

ট্রলার থেকে মাছ নামানো হচ্ছে।  ছবি: বাংলানিউজগভীর সাগর থেকে ফিরে আসা এফবি গোলাপফুল ট্রলারের মাঝি হাফিজুর ইসলাম ও এফবি আলম-২ ট্রলারের মাঝি আব্দুর রহিম বলেন,  সাগরে অনেক মাছ। খেয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাল ভরা মাছ। দুই খেয়তেই মাছে ট্রলার ভরে যাওয়ায় তাড়াতাড়ি কুলে আইছি। তবে বর্তমানে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত থাকায় সাগর উত্তাল এবং জেলেদের থাকা নিরাপদ নয় বলেও তারা জানান।  

ট্রলার মাঝি মো. জাকির হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার পরে এখন যেভাবে মাছ ধরা পড়ছে সাগরে তাতে আমরা অনেক খুশি। তবে এ নিষেধাজ্ঞা ভারতের সঙ্গে আমাদের দেশে একসঙ্গে দেওয়া হলে সাগরে আরও বেশি মাছ বৃদ্ধি পাবে।  

তারা আরও বলেন, আমরা প্রত্যেকটা ট্রলারে অল্প করে জাল ফেলতে পেরেছি তাতেই ৪ হাজার মাছ পেয়েছি। যা ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারব।

এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপের প্রভাবে নগরে আরও তিনদিন বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বহাল রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে দেখানো তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত। এ কারণে ফিরে আসা জেলেরা নতুন করে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। জেলেরা জানান, আবহাওয়া ভালো হলেই সাগরে রওনা হবো।  

ট্রলার মালিক আবুল হোসেন ফরাজী বাংলানিউজকে বলেন, ফিরে আসা জেলেরা জানান, সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। এক কথায় বলা যায় ট্রলার ভর্তি হয় দু’এক খেয়াতেই। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দুই দেশেই (ভারত-বাংলাদেশে) একসঙ্গে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হোক। তাহলে ভারত যেমন আমাদের দেশের মাছ আহরণ করতে পারবে না তেমনি দেশের মাছের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে।  

পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মার্কেটিং অফিসার মো. আহম্মেদ উল্যাহ জানান, গত ৪ দিনে গড়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪২ টন ইলিশ বিক্রি হয়েছে যা থেকে সরকারি রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৩৩০ টাকা। এভাবে ইলিশসহ অনান্য মাছ উঠলে জেলেদের মুখে যেমন হাসি ফুটবে তেমনি সরকারি কোষাগারেও প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব জমা হবে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৩৪০ ঘণ্টা, জুলাই ২৭, ২০১৯
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।