অফিসে উপস্থিত না থেকে মাসিক বেতনের নির্দিষ্ট একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে প্রকল্প পরিচালক আবদুল খালেককে দেওয়ার শর্তে তারা চাকরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সরকারের নানা বিভাগে পাঠানো অভিযোগ থেকে এমন অদ্ভুত নিয়োগ প্রক্রিয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।
জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে আরবান পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আইটি বিষয় সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য ইনডিভিজুয়াল কনসালট্যান্ট (আইটি স্পেশালিস্ট) পদে ছয়জন ওইনডিভিজুয়াল কনসালট্যান্ট (মিউনিসিপাল ফাইন্যান্স স্পেশালিস্ট) পদে দু’জনসহ মোট আটজনের নিযোগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের প্রত্যেককে বাদ দিয়ে অভ্যন্তরীণ নিয়োগের মাধ্যমে নিয়োগ দেন আব্দুল খালেক। এদের মধ্যে একজন প্রকল্প পরিচালক আবদুল খালেকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এলপিআরে থাকা রাখাল চন্দ্র বর্মন, যার শিক্ষাগত যোগ্যতা উদ্ভিদ বিদ্যায় স্নাতকোত্তর। আর অন্যজন ইসলামের ইতিহাস থেকে স্নাতকোত্তর একেএম জাহাঙ্গীর আলম খান।
এছাড়া আইটি স্পেশালিস্ট পদে রয়েছেন ইতিহাসে স্নাতকোত্তর সানজিদা খান, ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর নজরুল ইসলাম খান, উন্নয়ন বিদ্যায় আবু বকর সিদ্দিক, সমাজকল্যাণে স্নাতকোত্তর জাহিদুল হক খান।
এদের মধ্যে আব্দুল খালেকের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী এএনএম ফয়জুল হকের আত্মীয় সানজিদা খান ও জাহিদুল হক খান- যারা আপন ভাই-বোন।
নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সরকারের বিভিন্ন শাখায় অভিযোগ দিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিতরা।
স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জানা যায়, এই প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৬০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এরমধ্যে জিওবি ১৮৯ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৪৭১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আইটি প্রকল্পটি আলোর মুখ না দেখার আগেই পাঁচ মাস ধরেই আড়াই লাখ টাকা করে বেতন তুলছেন নিয়োগপ্রাপ্তরা। নিয়োগপ্রাপ্তরা নিয়মিত প্রজেক্ট অফিসে অনুপস্থিত থেকে বাইরে চাকরি করেন। হাজিরা খাতায় কোনো স্বাক্ষর না করে অডিট জেনারেল থেকে প্রকল্প পরিচালকের স্বাক্ষরে প্রতি মাসে বেতন নিচ্ছেন।
জানা যায়, অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শর্তে বেতনের নির্দিষ্ট একটি অংশ প্রকল্প পরিচালক আবদুল খালেককে তারা মাসোহারা দিয়ে থাকেন। এসব বিষয়ে তারা সম্প্রতি প্রতিবাদ করলে আবদুল খালেক তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে থামিয়ে দেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে রোববার কয়েক দফা ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এসএমএস করেও সাড়া মেলেনি। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে কল করা হলে আব্দুল খালেক বলেন, টেলিফোনে কথা বলার সময় নেই। অফিসে আসেন কথা বলেন। আমার কথা বলার একটা সিস্টেম আছে!
এক পর্যায়ে ফোন রেখে দেন এই কর্মকর্তা।
অভিযোগে আরও জানা যায়, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত আবদুল খালেকের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি উত্তরা ষড়যন্ত্রের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৩০৮ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০১৯
এমআইএইচ/এএ