বুধবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে সচিবালয়-প্রেসক্লাব এলাকায় এ কর্মসূচি পালন শুরু করেন তারা। আন্দোলন থেকে এই বিক্ষোভকারীরা জানাচ্ছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছেড়ে যাবেন না।
পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে গত ১৪ জুলাই বিকেল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক ও ফুটপাতের ওপর কাগজ মেলে এবং তাঁবু বানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন কয়েক হাজার পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী।
তাদের দাবি, তারা পাঁচ থেকে ৭২ মাস পর্যন্ত বেতন এবং বকেয়া ছাড়াই অফিস করছেন। পৌরসভার নিজস্ব আয় এলেই কেবল বেতন হয়। না হলে বছরের পুরো সময় চলে বেতন ছাড়া। যতোক্ষণ পর্যন্ত সরকারিভাবে বেতন দেওয়ার আশ্বাস না আসবে, ততোক্ষণ তারা ঘরে ফিরবে না বলে জানান।
পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বরিশাল বিভাগীয় সিনিয়র সহ সভাপতি জসিম উদ্দীন বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক আমাদের নিয়োগ করা হয়েছে। অথচ বেতনের জন্য নির্ভর করতে হয় পৌরসভার নিজস্ব আয়ের ওপর। যদি পৌরসভার আয় না থাকে, তবে আমাদের বেতন ছাড়াই চলতে হয়। এভাবে কারও কারও পাঁচ থেকে ৭২ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া পড়েছে।
আন্দোলন থেকে হাবিব নামে একজন বলেন, আমাদের বেতন আসে নিজস্ব আয় থেকে। আর ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারীদের বেতনের ৭৫ শতাংশ আসে সরকারি কোষাগার থেকে। একই নিয়মে নিয়োগ অথচ বেতনের ক্ষেত্রে দুই নীতি হতে পারে না। আমাদেরও একই নিয়মে বেতন দিতে হবে।
পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ম ই তুষার বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের ৩২৮টি পৌরসভার মধ্যে মাত্র ৩৩টির বেতন-ভাতা নিয়মিত। বাকিগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারও ৭২ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে। এসব পৌরসভার ৩৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পৌর আয়ের দিকে চেয়ে থাকতে হয়। আয় হলে বেতন হয়, না হলে হয় না।
এতো বকেয়া হলে একজন কর্মচারী কীভাবে চলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৌর কর্মচারীদের সবার বাড়ি পৌর এলাকার মধ্যে। তাদের বাড়ি ভাড়া লাগে না। অন্য কোনো কাজ করে সংসারের খরচ চালাতে হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১২১২ ঘণ্টা, জুলাই ৩১, ২০১৯
ইএআর/টিএ