ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৭ আগস্ট ২০২০, ১৬ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

ভাঙনের মুখে হাকিমুদ্দিন বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা

ছোটন সাহা, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭১৮ ঘণ্টা, আগস্ট ১, ২০২০
ভাঙনের মুখে হাকিমুদ্দিন বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা

হাকিমুদ্দিন থেকে ফিরে: চলতি বর্ষায় মেঘনার ভাঙনের মুখে পড়েছে ভোলার বোরহানউদ্দিনের ঐতিহ্যবাহি হাকিমুদ্দিন বাজারসহ গুরুপ্তপূর্ণ স্থাপনা। নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকেই অসহায় হয়ে পড়েছেন।

কেউ কেউ আবার অন্যত্র চলে গেছেন আবার ভাঙনের মুখেও রয়েছে শত শত পরিবার। এতে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়েছে পড়েছে অসহায় পরিবারগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শত বছরের পুরনো হাকিমুদ্দিন বাজারটি কিছুদিন আগেও জাকজমকপূর্ণ ছিল। কিন্তু বর্তমানে সর্বনাশা মেঘনার ভাঙনের মুখে অনেকটাই চারদিকের পরিবেশ যেন নিস্তব্ধ। মেঘনার ভয়াল ছোবলে বিলীন হওয়ার পথে এর গুরুপ্তপূর্ণ স্থাপনা। ইতোমধ্যে বহু পরিবার গৃহহারা হয়ে নিঃস্ব হয়েছে, কেউ আবার ভাঙনের শিকার হয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। নতুন করে ঘরে তুলতেও পারছে না কেউ।

ভাঙন কবলিত এলাকার সুমসুন্নাহার, নান্টু ও আলাউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, বর্ষা মৌসুমে অনেক বেশি পরিবারের মানুষ নদী ভাঙনের হুমকিতে পড়েছেন। এদের মধ্যে অনেকের ৩-৪বার ভাঙনের মুখে পড়েছেন। নতুন করে ঘর তোলার সামর্থ্য নেই তাদের।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অসহায় অবস্থা নদীর কূলে বসবাস করে আসছিলেন ফাতেমা বেগম ও জেসমিনসহ অনেকেই। তারা জানান, আমরা ভয়ের মধ্যে থাকি কখন নদী এসে সব ভেঙে নিয়ে যায়, রাতেও ঠিকমত ঘুমাতে পারিনা। আজ এখানে আছি তো কাল থাকতো পারবো কি না জানিনা।

এদিকে, ইতোমধ্যে বহু পরিবার গৃহহারা হয়ে নিঃস্ব হয়েছে, কেউ আবার ভাঙনের শিকার হয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। নতুন করে ঘর তুলতেও পারছে না কেউ। অনেকের বাড়ির উঠানের কাছে চলে এসেছে নদী। আর তাই ভয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে হাকিমুদ্দিন লঞ্চঘাট, বেশ কয়েকটি স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও মাছঘাটসহ গুরুপ্তপূর্ণ স্থপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

হাকিমুদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী উজ্জল হাওলাদার বাংলানিউজকে জানান, ঐতিহ্যবাহী হাকিমুদ্দিন বাজারটি এখন মেঘনায় বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনাসহ নদীর কুলঘেষে বসবাস করা শত শত পরিবার দিশেহারা অবস্থায় রয়েছে, আমরা স্থানীয় সংসদ আলী আজম মুকুলের কাছে দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ বাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসিকুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ভাঙন রোধকল্পে একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। হাকিমুদ্দিন বাজার এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ঝঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভাঙন ঠেকানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প প্রস্তবনা সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ দ্বারা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে কার্যক্রম কিছুটা স্থবির হয়ে আছে, ভবিষ্যতে করোনা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে গেলে আশা করি প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় প্রকল্পটি পাস হলেই খুব শিগগিরই কাজ শুরু করা যাবে এবং তাহলেই ঝূঁকিপূর্ণ এলাকার ভাঙন রোধ করা যাবে।  

এদিকে, নদী ভাঙনের হাত থেকে দ্রুতই প্রচীনতম বাজারটিকে রক্ষার দাবি এলাকাবাসীর।

বাংলাদেশ সময়: ১৭০৯ ঘণ্টা, আগস্ট ০১, ২০২০
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa