ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪ সফর ১৪৪৩

জাতীয়

নিষেধাজ্ঞা, তবুও এক মোটরসাইকেল দুইজন!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২০০ ঘণ্টা, জুলাই ২৬, ২০২১
নিষেধাজ্ঞা, তবুও এক মোটরসাইকেল দুইজন!

ঢাকা: করোনা সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। তবুও যেন জনমানুষের মধ্যে সচেতনতার বালাই নেই।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বিধিনিষেধের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই অনেক সড়ক মোটরসাইকেল দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ সময় সড়কে এক মোটরসাইকেলে দুই থেকে তিনজন চলাচল করছেন।

দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। একই সঙ্গে করোনায় প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা।

বিধিনিষেধে সড়কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতাও রয়েছে। অকারণে রাস্তায় বের হওয়া মানুষদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে  আইনি ব্যবস্থা। তবুও অনেকেই মানছেন স্বাস্থ্যবিধি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষ যদি বিধিনিষেধ না মানে, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করে তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা অসম্ভব। তারা আরও বলছেন, জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেও অনেকে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছায় তা মানছেন না। এতে দিনে দিনে করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলছে। ঘটছে প্রাণহানিও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা একদিনে দেশে করোনায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড।

এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৯ হাজার ৫২১ জনের। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ১৯২ জন। সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৭ জনে।

সোমবার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গত তিনদিনে তুলনায় কঠোর বিধিনিষেধের চতুর্থ দিনে সড়কে ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। সঙ্গে বেড়েছে মোটরসাইকেল চলাচলও। এ সময় সড়ক ফাঁকা থাকায় মোটরসাইকেলে দুইজনের বেশি চলাচল করতে দেখা গেছে। এদিকে অনেকেই ঠিকমত মাস্ক ব্যবহার করছেন না। অনেকেই আবার মাস্ক রেখেছেন থুতনিতে। আবার মোটরসাইকেল চালকদের অনেককেই হেলমেট ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।

এদিকে অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল চালকদের সড়কের পাশে বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।  

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও তারা যাত্রী সেবা দিচ্ছেন। তবে সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট দেখলে মোটরসাইকেলের ঘুরিয়ে দিচ্ছেন, নয়তো যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে সামনে এগিয়ে আবার যাত্রী তুলছেন।

জনসাধারণ যারা রিকশায় চলাচল করছেন, তাদের অনেকেই ঠিকমত মাস্ক ব্যবহার করছেন না।

রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা দিয়ে রিকশায় করে যাচ্ছিলেন আজমত আলী। তার সঙ্গে ছিলেন আওয়াল নামে এক ব্যক্তি। সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা। তবে রিকশায় বসে কথা বলতে বলতে যাচ্ছিলেন তার। তাদের দু’জনের মুখে মাস্ক থাকলেও তা ঝুলে ছিল থুতনিতে।

থুতনিতে মাস্ক থাকার কারণ জানতে চাইলে আজমত আলী বলেন, ‘করোনা ভাইরাস আছে নাকি। আল্লাহ রোগ দিছে, আল্লাহই সারাইবো। মাস্ক পইরা কি হইবো। ’

এদিকে হাউস বিল্ডিং এলাকায় দেখা গেছে, অনেক মোটরসাইকেল চালক পেছনে আরেক জন নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। আবার অনেকেই মাস্কও পরেনি। কেউ আবার মাস্ক পরেই মোটরসাইকেল চালালেও। অনেকেই আবার হেলমেট ও মাস্ক কিছুই পরেনি।

আব্দুল্লাহপুর, হাউস বিল্ডিং, আজমপুর বিমানবন্দর, কুড়িল ও বাড্ডা এলাকায়  সড়কের পাশেই মোটরসাইকেল রেখে যাত্রীর অপেক্ষা করছিলেন অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল চালকরা। আবার কেউ কেউ যাত্রী নিয়েও ছুটছেন।

এদিকে আব্দুল্লাহপুরে পুলিশের দুটি চেকপোস্ট, আজমপুরে উত্তরা পশ্চিম থানার সামনে একটি ও জসীমউদ্দিনে একটি চেকপোস্ট দেখা গেছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যানবাহনে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তবুও এর মধ্যে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলাচল করছেন।

পুলিশের কার্যক্রম: ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এদিন সরকারি নির্দেশনা ও বিধিনিষেধ অমান্য করায় রাজধানীতে ৫৬৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৬৪ জনকে এক লাখ ২৬ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করেছেন। এছাড়া অকারণে রাস্তায় বের হওয়ায় ৪৪৩টি গাড়িকে ১০ লাখ ২১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা।

র‌্যাবের কার্যক্রম: র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার তথ্য অনুযায়ী, এদিন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশব্যাপী ৩১টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৬৪ জনকে এক লাখ ৭৭ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও দেশব্যাপী র‌্যাবের ১৮০টি টহল ও ১৮৭টি চেকপাস্ট পরিচালনা করা হয়। বিনা প্রয়োজনে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে র‌্যাবের জনসচেতনামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করেছে র‌্যাব।

এবিষয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান বাংলানিউজকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে বিধিনিষেধের চতুর্থ দিনেও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে মাঠে ছিল র‌্যাব। র‌্যাবের নিয়মিত টহল ও চেকপাস্টের পাশাপাশি মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত টহল ও চেকপাস্ট।

বাংলাদেশ সময়: ২২০০ ঘণ্টা, জুলাই ২৬, ২০২১
এসজেএ/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa