ঢাকা, বুধবার, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

পিএসসির প্রশ্ন ফাঁস করলে ১০ বছর জেল

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২৫১ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৯, ২০২১
পিএসসির প্রশ্ন ফাঁস করলে ১০ বছর জেল

ঢাকা: প্রশ্ন ফাঁস করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর জেলের বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন আইন, ২০২১’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষ থেকে মন্ত্রী-সচিবেরা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং সর্বনিম্ন তিন বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, খসড়া আইনে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা সংক্রান্ত কিছু অপরাধের কথা বলা হয়েছে। কেউ যদি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করে তাহলে সর্বোচ্চ দুই বছর, সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড হতে পারে।

‘প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। সর্বনিম্ন তিন বছর দণ্ড বা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। বেশ শক্ত একটা স্ট্যান্ড নেওয়া হয়েছে। জরিমানাটা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। ’

উত্তরপত্রের জালিয়াতির সঙ্গে যারা জড়িত থাকবেন, তাদের সর্বোচ্চ দুই বছর ও সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড হতে পারে। কোনো পরীক্ষার্থী যদি অসদুপায় অবলম্বন করে বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে অসদুপায়ে সহযোগিতা করে তাহলে সর্বোচ্চ দুই বছর ও সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড হবে। পরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে খসড়া আইনে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যদি কোনো অপরাধ করে তাহলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড হতে পারে। মোবাইল কোর্টের মধ্যেও এটা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমেও পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে যারা যুক্ত থাকবে তাদের বিচারের আওতায় এনে সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এটা ১৯৭৭ সালের অর্ডিন্যান্স ছিল। হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেটা নিয়ে আসা হয়েছে। এটা রুল বেইজড আইন। ম্যাক্সিমাম জিনিসগুলো রুল দিয়ে করে নেওয়া হবে। আইনে জেনারেল একটা প্রভিশন লে-ডাউন করে দেওয়া হয়েছে। খসড়া আইনে ১৫টি ধারা আছে। যেহেতু রুল বেইজড আইন, সব প্রসিডিউরগুলো পরবর্তীতে রুলের মাধ্যমে করে দেওয়া হবে।

খসড়ায় কমিশন গঠন করার কথা বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই বিষয়টির ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। কমিশনে কমপক্ষে ছয়জন সদস্য থাকবেন, তবে সদস্য কোনোভাবে ১৫ জনের বেশি হবে না। একটা আউটলাইন করে দেওয়া হয়েছে। বাকি ফরমেশনটা রুল দিয়ে করে দেওয়া হবে। তাদের দায়িত্ব হলো, সংবিধানের ১৪০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন রিক্রুটমেন্ট ও অন্যান্য অপিনিয়মের বিষয়ে তারা দায়িত্ব পালন করবে। কমিশনকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহায়তা দিতে হবে—এমন একটা ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা পদ্ধতি কীভাবে হবে সেটার একটা আউটলাইন করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রুল দিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

বাংলাদেশ সময়: ১২৪৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৯, ২০২১/আপডেট: ১৪৩৫ ঘণ্টা
এমআইএইচ/এজে/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa