ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ০৭ জুলাই ২০২২, ০৭ জিলহজ ১৪৪৩

জাতীয়

ঘানির সঙ্গে ঘোরে জীবনের চাকা

কাজী আব্দুল কুদ্দুস, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২১৪ ঘণ্টা, মে ১৮, ২০২২
ঘানির সঙ্গে ঘোরে জীবনের চাকা

রাজবাড়ী: বিলুপ্ত প্রায় কাঠের ঘানিতে পিষে  খাঁটি সরিষার তেল তৈরি করছেন রাজবাড়ীর বাচ্চু ব্যাপারী (৫৫) ও তার ছেলে সবুজ ব্যাপারী (২৬)।

ভেজাল ও নিম্নমানের খাবারের ভিড়ে মানুষের হাতে ভেজালমুক্ত ভোজ্য তেল পৌঁছে দিতে পাঁচ বছর ধরে তেল তৈরি করছেন তারা।

বাচ্চু ব্যাপারী রাজবাড়ী জেলা সদরের চন্দনী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

গরু(বলদ) দিয়ে কাঠের ঘানি টানিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ কেজি সরিষা তেল উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছেন তিনি। তবে সরিষা দানা ও গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তেমন একটা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না বাচ্চু ব্যাপারী।

নিজেদের পরিবারে স্বচ্ছতা ফেরাতে দিন রাত বাবা ছেলের এ যেন এক জীবন সংগ্রাম।

স্বল্প পরিসরে মাত্র ২টি ঘানিতে তেল তৈরি করে ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক তেল দিতে পারছেন না তিনি। তার দাবি সরকারি সহায়তা পেলে বাড়াতে পারবেন কার্যক্রম। মেটাতে পারবেন খাঁটি সরিষা তেলের ক্রেতাদের চাহিদা।

বর্তমানে ২৭০ টাকা প্রতি লিটার ও প্রতি কেজি সরিষা তেল বিক্রি করছেন বাচ্চু ব্যাপারী।

বাচ্চু ব্যাপারীর ছেলে সবুজ ব্যাপারী জানান, এখন পর্যন্ত কোনো চাকরি না হওয়ায় বাবার সঙ্গে কাঠের ঘানিতে তেল ভাঙ্গাচ্ছি। এতে আমার কর্মসংস্থান হয়েছে।

বাচ্চু ব্যাপারী জানান, খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদন ধরে রাখতে ও পরিবারের স্বচ্ছলতা আনতে দেশীয় প্রযুক্তিতে কাঠের ঘানি ও গরু দিয়ে তার এ ঘানিটি সচল রেখেছি। মাঝে মাঝে গরুর বদলে আমরাও ঘানি ঠেলে তেল উৎপাদন করি। রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মাগুড়া, ফরিদপুর ও ঢাকা থেকে তেলের চাহিদা আসছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুসারে তেল উৎপাদন করতে পারছি না। ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো ও ঘানির পরিসর বাড়াতে সরকারি সহায়তা চাই।

রাজবাড়ী শহরের বাসিন্দা ফিরোজ মোল্লা  জানান,  জানতে পারলাম চন্দনীতে কাঠের ঘানিতে সরিষার তেল ভাঙ্গানো হচ্ছে। নিজেই দেখতে আসলাম। ভালো লাগলো। ২ কেজি তেল কিনেছি।

তেল কিনতে আসা আলাউদ্দিন জানান, আমি এখান থেকে নিয়মিত সরিষার তেল কিনে খাই। কাঠের ঘানির তেলের মান ভালো।

চন্দনী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রব জানান, বাচ্চু ব্যাপারী তার পরিবারকে স্বচ্ছল রাখতে ও খাঁটি মানের সরিষার তেল উৎপাদন ধরে রাখতে রাত দিন কষ্ট করে যাচ্ছেন। পরিধি ছোট হওয়ায় সে চাহিদা অনুযায়ী তেল উৎপাদান করতে পারছেন না।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মার্জিয়া সুলতানা জানান, ঘটনাটি শুনে বাচ্চু ব্যাপারীর ঘানিটি পরিদর্শন করেছি। তবে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদন করতে তার কী ধরনের চাহিদা তার একটি কর্ম পরিকল্পনা উপজেলা প্রশাসনের কাছে দাখিল করলে তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১২১৩ ঘণ্টা, মে ১৮, ২০২২
এসআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa