ঢাকা, শনিবার, ১০ আশ্বিন ১৪২৮, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬ সফর ১৪৪৩

অলিম্পিক

মার্গারিটার স্বর্ণ জয়ে গর্বিত স্বজনরা

শরীফ সুমন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩৩০ ঘণ্টা, আগস্ট ২৩, ২০১৬
মার্গারিটার স্বর্ণ জয়ে গর্বিত স্বজনরা ছবি: সংগৃহীত

দুর্গাপুরের ক্ষিদ্র কাশিপুর (রাজশাহী) থেকে ফিরে: অলিম্পিকের রিদমিক জিমন্যাস্টিক ইভেন্টে দ্যূতি ছড়িয়ে স্বর্ণ জয় করেছেন মার্গারিটা মামুন।

অলিম্পিকের পর্দা নামলেও সোনাজয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশ জিমন্যাস্ট মার্গারিটা মামুনের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর চর্চা এখন সবার মুখে মুখে।

অভিভূত এবং গর্বিত বাংলাদেশে থাকা স্বজনরাও। আর হবেই বা না কেন তার শেকড় যে, এদেশের মাটিতেই। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ক্ষিদ্র কাশিপুরেই তার পৈতৃক নিবাস।

এ ক’দিনে টেলিভিশনের স্ক্রিনে যতবার মার্গারিটার চোখ ধাঁধানো ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখা গেছে; ধারাভাষ্যকার যতবার মার্গারিটার নামের সঙ্গে ‘বেঙ্গল টাইগার’ শব্দটি উচ্চারণ করেছেন, ততবার পুলোকিত হয়েছেন তারা।

মার্গারিটার মেডেলের সোনালি ঝলক তাই আলো ছড়িয়েছে বাংলাদেশের অজপাড়া গাঁয়েও।

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ক্ষিদ্র কাশিপুর গ্রাম। সেই গ্রামে থাকেন মার্গারিটার ফুপু বিনা জহুরা।

তার কাছে ভাতিজির ‍এমন সাফল্যের অনুভূতি জানতে গেলে প্রকাশের ভাষা হারিয়ে ফেলেন। মার্গারিটার বাবা আবদুল্লাহ আল মামুন (গ্রামে ডাক নাম শিপার) বড় বোনকে বলেছিলেন মেয়ের জন্য দোয়া করতে।

‘তবে কেবল তারাই নন, পুরো দেশের মানুষ দোয়া করেছিলেন বলেই এমন সাফল্য এসেছে। বাবা-মা, স্বজন, গ্রাম ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পেরেছে মার্গারিটা,’ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন তিনি।

‘বাংলার বাঘিনী’ খ্যাত মার্গারিটা মামুনের ফুপু বিনা জহুরা বলেন, স্বর্ণ জয়ের পর থেকে গ্রামে তাদের সম্মান যেনো কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। পাড়া-প্রতিবেশী বাড়ি ছাড়ছে না। সবাই খোঁজ-খবর নিতে শুরু করেছেন।

মার্গারিটার জয়ে ক্ষিদ্র কাশিপুর গ্রামের মানুষের মধ্যেও যেন আনন্দের বন্য বইছে। সবাই যখন বলছেন ‘আপনার ভাইয়ের মেয়ে দেশের মুখ উঁচু করেছে’ তখন নিজেকে অনেক গর্বিত মনে হচ্ছে তার।

বাড়ির ঘেঁষা বাঁধানো পুকুর ঘাট দেখিয়ে বিনা জহুরা জানান, এই যে এখানে বসেই মাছ ধরতেন তার ভাই শিপার। যখন বাড়ি আসেন এখানেই বড়শি ফেলতেন তিনি।

‘আর দুষ্টু মেয়েটা তখন ওর বাবার কাঁধে উঠে বসে থাকতো, চুল টানতো বড়শি নাড়িয়ে দিত। দৃশ্যগুলো যেন এখনো চোখে ভাসে,’ বাবা-মেয়ের এমন খুনসুটির কথা বলতে গিয়ে গলা ভারী হয়ে আসে ফুপু বিনা জহুরার।

মার্গারিটার ফুপাতো ভাই শামসুজ্জোহা বলেন, মার্গারিটা কোন দেশের হয়ে খেলেছে সেটা বড় কথা নয়। সে যে এই গ্রামেরই মেয়ে, এতেই গর্বিত তারা। অলিম্পিক আসরে বাজিমাতের পর মার্গারিটা নিজেও এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে।

‘‘স্বর্ণ জিতে মার্গারিটা যখন বলেছে, 'আমি তো বাংলাদেশেরও নাগরিক, দু’দেশেরই নাগরিকত্ব রয়েছে আমার। ' তখন আমাদের মনটাও জুড়িয়ে গেছে। ’’

শামসুজ্জোহা বলেন, তার মামা আবদুল্লাহ আল মামুন শিপার বর্তমানে মরণব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত। গত রোববার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে ইমোতে (ভিডিও কলিং) কথা হয়েছে তার সঙ্গে।

তিনি জানান, মস্কোর মেয়ে শেষ পর্যন্ত মায়ের দেশ রাশিয়াকেই বেছে নিয়েছে। তবু তার সোনা জয়ের কীর্তির গৌরব ছড়িয়েছে গ্রামের বাড়িতেও। তাই বিশ্বজুড়ে তার পরিচিতি এখন 'দ্য বেঙ্গল টাইগার'।

মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আবদুল্লাহ আল মামুন আশির দশকে পড়াশোনা করতে গিয়ে রাশিয়ায় থিতু হয়ে যান। বিয়ে করেন সাবেক রাশিয়ান রিদমিক জিমন্যাস্ট আনাকে।

মস্কোতে জন্ম নেওয়া মার্গারিটাকে রিদমিক জিমন্যাস্ট হিসেবে গড়ে ত‍ুলেন মা। তবে রাশিয়ায় জন্ম ও মায়ের দেখানে পথে হাঁটলেও পিতৃভূমি বাংলাদেশের প্রতি ভীষণ টান রয়েছে মার্গারিটার।

বাংলাদেশ থেকে ঘুরে গেছেন কুড়ি বছরের এ তরুণী। শামসুজ্জোহা বলেন, ‘মামার ভীষণ ইচ্ছে ছিলো তার মেয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করুক, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এর পরও মার্গারিটার সাফল্যে আমরা গর্বিত। ’

বাংলাদেশ সময়: ২২৪৮ ঘণ্টা, আগস্ট ২৩, ২০১৬
এসএস/এমএ

** অলিম্পিকে ‘বাংলার বাঘিনী’র স্বর্ণ জয়
** রিওতে ‘বাংলার বাঘিনী’ নিজের হিটে প্রথম
** ‘বাংলার বাঘিনী’ রিটা অলিম্পিক মাতাচ্ছেন রাশিয়ার হয়ে (ভিডিও)

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa