ঢাকা: তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে জোটবদ্ধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে এককভাবেই নির্বাচন করবে।
জানা গেছে, জোট গড়া হলে মূলত ১৪ দলই হবে সে জোটের মূল ভিত্তি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এবং নাগরিক-সমাজের প্রতিনিধিদেরও সম্পৃক্ত করে জোটকে আরও বড় করা হতে পারে। এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য শিগগিরই ১৪ দলের বৈঠক ডাকা হবে। আগামী ২৯ মার্চ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ বৈঠকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তবে সিটি করপোরেশনের এই নির্বাচনী জোটে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি থাকছে না। বিএনপি নির্বাচনে এলেও বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টিকে আলাদাভাবেই নির্বাচনী লড়াইয়ে দেখতে চায় আওয়ামী লীগ।
আসছে ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম--- এই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। এই নির্বাচনে বিএনপি জোটগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলেও শোনা যাচ্ছেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, বিএনপি নির্বাচনে আসবে এটা ধরে নিয়েই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছেন তারা। গত ১৯ মার্চ আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের এক বৈঠকেও এ-নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ‘বিএনপি নির্বাচনে আসবে’ বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। ওই বৈঠকে বলা হয়, বিএনপি নির্বাচনে এলে নির্বাচনী কৌশল ও দল সমর্থিত প্রার্থী মনোনয়ন হবে এক রকম, আর বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত না আসে তাহলে হবে আরেক রকম।
আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি নির্বাচনে না এলে এবং জোটের শরিক দলগুলোর আলাদা আলাদা প্রার্থী থাকলে যত বেশি প্রার্থী হয় ততই ভাল---এমনটাই ভাবছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। এমনকি আওয়ামী লীগেরও যদি একাধিক প্রার্থী থাকে, তাহলেও কাউকে নিরুৎসাহিত করা বা বাধা দেয়া হবে না বলে জানান দলের নেতারা।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের এক নেতা বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকা দক্ষিণে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের দুই জন প্রভাবশালী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে পড়েছেন। বিএনপি নির্বাচনে না এলে এখানে আওয়ামী লীগের দুই জনই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর বাইরে জোটের আরও কোনো দলের থেকে প্রার্থী হলে সেটাওকেও উৎসাহিতই করা হবে।
তবে শেষ পর্যন্ত যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে তবে জোট গড়ার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বাংলানিউজকে জানান। তারা ভাষ্য, জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তবেই একক প্রার্থী নিশ্চিত করা হবে। মেয়র প্রার্থী ছাড়াও ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থীও জোটগতভাবে দেবার চেষ্টা করা হবে বলে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। তবে জোটের বিষয়ে কেউ এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বাংলানিউজকে বলেন, জোটগতভাবে তো হতেই পারে। আমাদের ১৪ দলীয় জোট আছে। আমরা তো চাইতেই পারি একক প্রার্থীর পক্ষে সবারই কাজ করা এবং ভোট দেয়া।
বাংলাদেশ সময়: ০১১২ ঘণ্টা, মার্চ ২৫, ২০১৫