ঢাকা, শুক্রবার, ৫ বৈশাখ ১৪৩১, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯ শাওয়াল ১৪৪৫

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

আদালতে জবানবন্দি

স্ত্রীকে খুন করে লাশ ফেলে ভাসিয়ে দেয় খালে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৫৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৪
স্ত্রীকে খুন করে লাশ ফেলে ভাসিয়ে দেয় খালে

চট্টগ্রাম: যৌতুকের জন্য সবসময় স্ত্রী আরজু আক্তারকে (২২) নির্যাতন করত নগরীর বাকলিয়া থানার বলিরহাট এলাকার কাঠমিস্ত্রি মো.সেলিম (৩০)। একদিন নির্যাতনের এক পর্যায়ে স্ত্রী তাকে বাবা তুলে গালি দেয়।

এতে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় সেলিম। এক পর্যায়ে কাঠ দিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ ফেলে দেয় বাড়ির পাশের খালে।


এলাকায় প্রচার হয়ে যায়, সেলিমের স্ত্রী খালে পড়ে মারা গেছে। নির্যাতনের বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। কিন্তু ঘটনার প্রায় চার মাসের মাথায় পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে সেলিমই স্ত্রীর প্রকৃত খুনী। তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নূরে আলম ভূঁইয়ার আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে সেলিম। জবানবন্দিতে সেলিম খুনের বিষয় বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেছে।

বাকলিয়া থানার ওসি মো.মহসিন বাংলানিউজকে বলেন, ‘খাল থেকে লাশ উদ্ধারের পর আরজু আক্তারের ভাই বাদি হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করেছিল। ওই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে আমরা খুনের আসল রহস্য উদঘাটন করি। আমরা সেলিমকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই এবং সেলিম খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। ’

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, সেলিম তার স্ত্রীকে বলিরহাট এলাকায় থাকত। তাদের বাড়ির পেছনেই কর্ণফুলী নদীর একটি শাখা খাল আছে। তাদের পাঁচ মাসের একটি কন্যা সন্তান আছে।

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর যৌতুকের জন্য সেলিম তার স্ত্রীকে নির্যাতনের এক পর্যায়ে সহ্য করতে না পেরে আরজু তাকে বলে, ‘তোর বাপ ভাল না, তুই কোত্থেকে ভাল হবি ?’ একথার পর আরও নির্মম হয়ে উঠে সেলিম। সে কাঠের পিঁড়ি দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে আরজুর মাথায় আঘাত করে। এতে আরজু জ্ঞান হারিয়ে ঢলে পড়লে সেলিম পরনের শাড়ি খুলে তাকে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর লাশ বাড়ির পিছনে খালে জোয়ারের পানিতে ভাসিয়ে দেয়।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন পুলিশ তার লাশ ওই খাল থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া অপমৃত্যু মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয় আরজুকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এরপর গত ২১ জানুয়ারি অপমৃত্যু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার এস আই আবদুল্লাহ একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

এর মধ্যে সেলিম পালিয়ে যায়। বাকলিয়া থানার এস আই আসহাব উদ্দিন হত্যা মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে কয়েক দফা সেলিমের খোঁজ করেও তাকে পায়নি।

এরপর সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ বাকলিয়া খাজা রোড থেকে সেলিমকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৯০০ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৪,২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।