ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ০৭ জুলাই ২০২২, ০৭ জিলহজ ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ নিয়ে তিন সাহিত্যিকের মধুর যুক্তিতর্ক 

মোহাম্মদ আজহার, ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৩৬ ঘণ্টা, মে ২৭, ২০২২
‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ নিয়ে তিন সাহিত্যিকের মধুর যুক্তিতর্ক  ...

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: লেখকেরা বোধহয় এমনই হন। যাদের চিন্তাভাবনায় থাকে সবার চেয়ে ভিন্নতা।

একটা ঘটনাকে ইতিহাসে রূপ দেওয়া কবি-সাহিত্যিকরা যখন একই মঞ্চে, তখন বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস নিয়ে একটু আলোচনা, যুক্তিতর্ক, বিশ্লেষণ তো হবেই।  

বলছিলাম জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার এবং কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলমের কথা।  

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার রচিত ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে একত্রিত হন তিনজন। বক্তৃতাকালে তিনজনই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ’ তাদের দৃষ্টিতে কেমন, সেটাও তুলে ধরেন।

কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম বলেন, বইটির নাম বোধহয় ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ এর পরিবর্তে ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ’ হলে আরও ভালো হতো। তাহলে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশকে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ বুঝানো হতো। কারণ বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধুর ইতিহাসটা এমনই। বঙ্গবন্ধুর জন্যই তো এই বাংলাদেশ। কিন্তু ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ বলতে মনে হয় যেন বঙ্গবন্ধু ছাড়াও ভিন্ন আরও কেউ আছেন এ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মতো।  

জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে আমরা কাছ থেকে দেখেছি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ছিলো স্বতঃস্ফূর্ত একটি ভাষণ। যে ভাষণ শুনে মনে হচ্ছিলো কোনও লিখিত ভাষণ। অথচ এ ঐতিহাসিক ভাষণটি ছিলো সম্পূর্ণ অলিখিত। আসলে কথাগুলো ছিলো বঙ্গবন্ধুর মনের কথা। বঙ্গবন্ধুর সেদিনের ১৮ মিনিটের ভাষণ স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণে অনন্য ভূমিকা রেখেছে। সবচেয়ে সাহসী এবং নিখুঁত একজন বাঙালির কথা যদি আমরা বলতে যাই, তাহলে বঙ্গবন্ধুর কথাই বলতে হবে। তাই আমার কাছে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ বা ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ’ নয় বরং সবচেয়ে যথাযথ মনে হয় ‘বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ’ নামটি। আশাকরি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আগামিতে রচিত বইগুলোতে বঙ্গবন্ধুকে আরও নিখুঁতভাবে তুল ধরবো আমরা।

চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, আমি মনে করেছি বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে আমারও কিছু করা উচিৎ। কারণ আমার শৈশবে বঙ্গবন্ধুর অনেক স্মৃতি। বাবার কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর কথা সবসময় শুনেছি আমরা। নিজের চোখেও অনেকবার দেখার সুযোগ হয়েছে। জাতির পিতার প্রতি আমার যে শ্রদ্ধা, সেখান থেকেই আমি বঙ্গবন্ধুর জন্য লেখার চেষ্টা করেছি। তবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখার সময় অনেক ভয় হয়েছে আমার। কারণ বঙ্গবন্ধু এমন একজন মানুষ যার সম্পর্কে লেখার ক্ষেত্রে অনেক ভেবেচিন্তে লিখতে হয়। সাহিত্য চর্চা যারা করেন, তারা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অনেক বেশি জানেন। একেকজনের দৃষ্টিকোণ থেকে বঙ্গবন্ধু একেকরকম। আমাদের সম্মানিত লেখকদের আলোচনাতেই বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আরও অনেক বই রচিত হবে নিশ্চয়ই। এরমধ্যে কিছু বই থেকে যাবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা সবচেয়ে জনপ্রিয় বই হিসেবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সবার মনে সমানভাবেই বেঁচে থাকবেন।  

জেনে নেওয়া যাক তিন সাহিত্যিকের বিষয়ে

মুহম্মদ নূরুল হুদা। সত্তর দশকের একজন বাংলাদেশি প্রথিতযশা কবি। তিনি জাতিসত্তার কবি হিসেবেও পরিচিত। একই সঙ্গে তিনি একজন ঔপন্যাসিক ও সাহিত্য-সমালোচক। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। ১৯৮৮ সালে বাংলা কবিতায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০১৫ সালে একুশে পদক দেওয়া হয়। এছাড়াও বর্তমানে তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

অধ্যাপক মোহীত উল আলম। একজন সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক, শেক্সপিয়র বিশেষজ্ঞ ও ইংরেজি পণ্ডিত। বর্তমানে চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যায়তনিক পরিষদের সভ্য। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য। তার রচিত কল্পকাহিনী, কবিতা এবং নন-ফিকশন বই রয়েছে ত্রিশের বেশি।

অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম এবং প্রথম মহিলা উপাচার্য। ২০২০ সালে বেগম রোকেয়া পদক পান তিনি। তার লেখা সৃজনশীল বইগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘চির উন্নত শির’, ‘সেনোবিয়া রবীন্দ্রনাথ ও হিমেনাথ ইবঙ্গ অন্যান্য বিবেচনা’, ‘যুগবাণী ও নজরুল’, ‘শেখ আন্দু’, ‘বাংলাদেশি তিনজন ঔপন্যাসিক শওকত ওসমান, ওয়ালীউল্লাহ, আবু ইসহাক’। ছোট গল্প বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘সাথী নক্ষত্রের আলো’, ‘পরিব্রজ’, ‘ছোটকার টোটকা গল্প’, ‘মৎস্য কন্যা’, ‘যুদ্ধ জীবন’, ‘রোহিঙ্গা’ ও ‘লব্ধক’।  

এবছর বাংলা একাডেমির প্রকাশনায় ‘৭ই মার্চের ভাষণ: একটি জাতির কথামালা’ এবং তৃতীয় চোখ’র প্রকাশনায় ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ বই দুটি প্রকাশিত হয়। বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তৃতীয় চোখ’র আয়োজনে বই দুটির মোড়ক উন্মোচন হয়।

চবি শিক্ষক কবি ও সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মহীবুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে। প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম। বিশেষ আলোচক ছিলেন কবি ও নাট্যব্যক্তিত্ব অভীক ওসমান।  

বাংলাদেশ সময়: ১৫১৫ ঘণ্টা, মে ২৭, ২০২২
এমএ/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa