ঢাকা, রবিবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৪ আগস্ট ২০২২, ১৫ মহররম ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

ডেইরি ফার্মের বর্জ্যে মরছে শিকলবাহা খাল

সৈয়দ বাইজিদ ইমন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩০৫ ঘণ্টা, জুন ২৯, ২০২২
ডেইরি ফার্মের বর্জ্যে মরছে শিকলবাহা খাল ...

চট্টগ্রাম: ৫০০ ডেইরি ফার্মের বর্জ্যে প্রতিনিয়ত দূষিত ও ভরাট হচ্ছে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা খাল। এই খালটি কীভাবে দূষণমুক্ত রাখা যায় সে বিষয়ে নানান পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

একইসঙ্গে ডেইরি ফার্ম থেকে সৃষ্ট বর্জ্য জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি-না সেটিও ভাবা হচ্ছে।

গত ৯ মে এ বিষয়ে অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মাসুদ কামালের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভার আয়োজন করা হয়।  সেখানে মতামতের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।

সুপারিশগুলো হলো- উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে গোবর সার শুকিয়ে জৈব সার তৈরির জন্য মিনি প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বৃহৎ জৈব সার তৈরির প্ল্যান্ট স্থাপন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ চাওয়া যেতে পারে, ফার্ম মালিকদের নিয়ে সমবায়ভিত্তিক বৃহৎ বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা যেতে পারে।

এছাড়া বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে জৈব সার কারখানা স্থাপন করা যেতে পারে এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বরাবর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষে প্রকল্প গ্রহণের জন্য বলা যেতে পারে।

এর আগে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, কর্ণফুলী উপজেলার ডেইরি ফার্মগুলোর বর্জ্য সমন্বিত কমপোস্ট বা জৈব সার প্ল্যান্ট স্থাপন করার মাধ্যমে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। তাই, এসব ফার্ম থেকে দৈনিক কত টন বর্জ্য সৃষ্টি হয় তা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে জানাতে অনুরোধ করে কমিটি। ফার্মের গোবর ব্যবহার করে বায়োগ্যাস প্লান্ট অথবা ক্ষুদ্র পাওয়ার প্ল্যান্ট করা যায় কি-না সেটি খতিয়ে দেখার বিষয়েও আহ্বান জানানো হয়। কমপোস্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য কর্ণফুলী উপজেলায় খাস জমি আছে কি-না সে বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে কমিটি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে ডেইরি ফার্মের সৃষ্ট দৈনিক গোবর বা বর্জ্যের পরিমাণ ও কমপোস্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য একটি প্রস্তাব প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা সুলতানা জানান, বর্তমানে কর্ণফুলী উপজেলায় কোনও খাস জমি নাই। জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর মাধ্যমে স্লটার হাউজ স্থাপনের জন্য খাস জমি চাওয়া হয়েছে। কিন্তু খাস জমি না থাকায় তা প্রদান করা সম্ভব হয়নি। জনসচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। ডেইরি বর্জ্য নিয়ে এনজিও আইডিএফ কাজ করছে। তাদের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তিনি জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সহায়তা চাওয়া যেতে পারে।

পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, যথাযথভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করে ফার্মের টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ফার্মারদের সমবায়ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য তিনি অনুরোধ জানান। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ডেইরি ফার্মসমূহের তালিকা প্রদানের অনুরোধ করেন তিনি।

কর্ণফুলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুমন তালুকদার জানান, উপজেলায় অনেকগুলো ডেইরি ফার্মে ইতিমধ্যে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। ডেইরি ফার্ম ছাড়াও মইজ্জারটেক গরুর বাজারের বর্জ্য ও গৃহস্থালী বর্জ্য দ্বারা শিকলবাহা খাল ভরাট হচ্ছে। ডেইরি ফার্মে দৈনিক গোবর বা বর্জ্যের পরিমাণ কমিটির কাছে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

এ সময় কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ বলেন, কর্ণফুলীতে ফার্ম দিন দিন বাড়ছে। মিল্ক ভিটারও একটি প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। ফার্মের মালিকদের মধ্যে পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। শুধু ফার্মের বর্জ্য ছাড়াও বিভিন্ন বাজার আর হাটের ময়লা আর্বজনাও এ খালে ফেলা হচ্ছে।  

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে যেসব মতামত পেশ করেন তা হলো- কর্ণফুলিতে ৫টি ইউনিয়নে ৫টি মিনি প্ল্যান্ট স্থাপন করে গোবর শুকিয়ে সার তৈরি করা হবে। এ লক্ষ্যে গ্রুপভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহের নিমিত্তে নির্দিষ্ট লোক নিয়োগ করা যেতে পারে। এগুলো চট্টগ্রামসহ বান্দরবান, কক্সবাজারে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

কর্ণফুলীতে প্রায় ২৫ হাজার গরু থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন গোবর এবং প্রায় ২ লাখ লিটার ইউরিন উৎপন্ন হয়, যা সার হিসেবে ব্যবহার করতে পারলে কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। উপজেলার মইজ্জারটেক গরুর বাজার কমিটি, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে খাল দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়।  

কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ও শিকলবাহা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শিকলবাহা খালটি একসময় খরস্রোতা ছিল। বর্তমানে পশুর বর্জ্যে পানি দূষিত হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দুই ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক। জোয়ারের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে খাল ভরাট করে দুই পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা।

বাংলাদেশ সময়: ১৩০০ ঘণ্টা, জুন ২৯, ২০২২
বিই/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa