ঢাকা, বুধবার, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

অর্থনীতি-ব্যবসা

পর্যটন ব্র্যান্ডিং: স্লোগান ও লোগোতে আসছে পরিবর্তন

ইশতিয়াক হুসাইন | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০২৭ ঘণ্টা, জুলাই ২১, ২০১০
পর্যটন ব্র্যান্ডিং: স্লোগান ও লোগোতে আসছে পরিবর্তন

ঢাকা: বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে বিশ্ববাসীর কাছে নতুন রূপে তুলে ধরতে এর লোগো ও স্লোগান পরিবর্তন করতে যাচ্ছে পর্যটন মন্ত্রণালয়।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী জিএম কাদের এরই মধ্যে এ পরিবর্তনের ব্যাপারে ইচ্ছা পোষণ করেছেন।



গত সপ্তাহে রাজধানীতে এক সেমিনারে এ বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান লোগো এবং স্লোগান বাংলাদেশের  বৈশিষ্ট্যকে পুরোপুরি উপস্থাপন করে না।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ বা ‘রূপময় বাংলাদেশ’ স্লোগান যুক্ত করে পর্যটন লোগো উন্মোচন করা হয়।

জিএম কাদের বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশের মানুষের চোখেই তার দেশ সুন্দর। তাই এই শব্দ আর সৌন্দর্য শুধু আমাদের একার নয়। ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে স্লোগান স্বাতন্ত্র হওয়া চাই যা দেশের মূল বৈশিষ্টকে তুলে ধরবে। ’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় বাংলাদেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য এখানকার মানুষ। এত দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়েও তারা হাসে-খেলে-গায়। মানুষকে সাহায্য করে কোনো বিনিময়ের চিন্তা না করেই। এই স্পিরিটটাকেই আমাদের তুলে ধরতে হবে। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা। সেটা যেভাবে ভালোমতো হবে সেটাই করতে হবে। ’
২০০৮ সালের ৬ আগস্ট বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ফখরুদ্দিন আহমদ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার পর থেকেই বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওই স্লোগান ও লোগো ব্যবহার করে আসছে।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দুই বছর পর মন্ত্রী কেন স্লোগান ও লোগো পরিবর্তনের কথা বলছেন এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে কথা উঠেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হেমায়েত উদ্দিন তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘ওই লোগো এবং স্লোগান সরকার অনুমোদিত, উপরের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত একজন সরকারি চাকুরে হিসেবে এ বিষয়ে আমরা কোনো মতামত দিতে পারবো না। ’

‘মন্ত্রী যদি সত্যিই এর পরিবর্তন চান তাহলে তিনি এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করতে পারেন’, বলেন পর্যটন চেয়ারম্যান।

বর্তমান স্লোগান তৈরির সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তাদেরই একজন প্রফেসর সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী স্লোগান বা লোগো পরিবর্তন করতেই পারেন। তবে তার আগে একটি ভালো স্লোগান তৈরি করতে হবে। ’

দেশে ব্যবসায়ীদের অন্যতম সংগঠন ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবুল কাশেম খান বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে যথার্থ লোগো ও স্লোগান ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দেখেছি, মালয়েশিয়া তাদের পর্যটন শিল্পকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে ‘ট্রুলি মালয়েশিয়া’ স্লোগান ব্যবহার করছে। ভারত ব্যবহার করছে ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’। আমাদেরও এ জাতীয় স্লোগান থাকা প্রয়োজন। ’

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের লোগো সংযোজন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এতে আরও ছিলেন শিল্পী হাশেম খান, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শফিক আলম মেহেদি।

কমিটি গঠনের তিন মাসের মধ্যে তারা ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ এবং বাংলায় এর ভাষান্তর ‘রূপময় বাংলাদেশ’ স্লোগানযুক্ত লোগো উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৪১ ঘণ্টা, জুলাই ২১, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa