ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৩০ মে ২০২৪, ২১ জিলকদ ১৪৪৫

অর্থনীতি-ব্যবসা

আরও টাকা চান ৮৬ প্রকল্প পরিচালক

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৩৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৪, ২০১৭
আরও টাকা চান ৮৬ প্রকল্প পরিচালক বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি বাড়ানোর নির্দেশনা দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৩৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে- এমন প্রকল্পের সংখ্যা ৮৬টি।  ২৪টি মন্ত্রণালয়-বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় বরাদ্দ ৯৪ হাজার ২০৮ কোটি টাকা, যা মোট এডিপি’র ৫৭ শতাংশ। গত অক্টোবর পর্যন্ত এসব প্রকল্পের অগ্রগতি মোট বরাদ্দের ১৮ শতাংশ।

গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পগুলোর কাজের গতি বাড়াতে আরও অর্থ দাবি করেছেন প্রকল্প পরিচালকেরা (পিডি)। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পূর্ণ করতে এবং নানা কারণ দেখিয়ে বরাদ্দ বাড়াতে চান তারা।


 
সোমবার (০৪ ডিসেম্বর) ওই ৮৬ প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতির পর্যালোচনা বৈঠকে এ দাবি করা হয়।
 
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ৮৬ প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পিডিরা নানা সমস্যা ও চাহিদার কথা তুলে ধরলে সেসব চাহিদা ও ভয় দূর হবে বলে আশ্বাস দেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
 
পদ্মাসেতু প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে।  

পর্যালোচনা বৈঠক সূত্র জানায়, গ্রামীণ পর্যায়ে অনেক সড়কের অবকাঠামো বৃষ্টিতে ভেঙে যায়। এসব সড়ক নির্মাণের আগে শক্তভাবে বাঁধ নির্মাণ ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সড়কে হেভিলোডেড লরি বা ট্রাক প্রবেশ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
 
জেলা অথবা উপজেলা পর্যায়ে বড় বড় লরি প্রবেশ করতে পারলেও এসব লরির পণ্য নির্দিষ্ট স্থানে খালাস করা হবে। এরপর ছোট ছোট ট্রাক অথবা ছোট লরিতে মালামাল লোড করে ইউনিয়নে নেওয়া হবে।
 
বৈঠকে জানানো হয়, তথ্য মন্ত্রণালয়ের ১০টি, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের ৭টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১৪টি প্রকল্পে চারমাসে একেটি টাকাও ব্যয় হয়নি। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি বাড়াতেও পিডিদের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

এদিকে থমকে আছে কর্ণফুলি নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের কাজ। চুক্তির আট মাস পার হলেও চীন অর্থছাড় না করায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।   অর্থছাড় না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতু কর্তৃপক্ষের টানাপড়েনেরও সৃষ্টি হয়েছে। বৈঠকে ওই প্রকল্পে ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। আরও ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই।
 
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘৮৬ পিডি’র সঙ্গে বৈঠক করলাম। প্রতিটি প্রকল্প নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে, আমরা সবকিছু বুঝতে পেরেছি। আবহাওয়া ঠিক থাকলে এবার এডিপি বাস্তবায়ন বাড়বে। অনেক প্রকল্পের অগ্রগতি ভালো। তবে কর্ণফুলি টানেল নির্মাণ প্রকল্পে সমস্যা ছিলো, তার সমাধান করা হয়েছে। পদ্মাসেতুর কাজও এগিয়ে যাচ্ছে’।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৩০৯টি এবং মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। অক্টোবর পর্যন্ত সার্বিক গড় অগ্রগতি ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।
 
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘১ হাজার ৩০৯টি প্রকল্পকে আমরা তিন ধাপে ভাগ করেছি। প্রথম ধাপে ৩৫০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রকল্প নিয়ে বৈঠক করলাম। পর্যায়ক্রমে ৩৫০ কোটি টাকার কম এবং মেগা প্রকল্পগুলো নিয়ে পিডিদের সঙ্গে বৈঠক করবো’।
 
‘প্রকল্প বাস্তবায়ন বাড়াতে পিডিরা আরও বরাদ্দ চেয়েছেন। আমরা বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছি। একইসঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৭৩৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৭
এমআইএস/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।