ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আষাঢ় ১৪২৯, ০৫ জুলাই ২০২২, ০৫ জিলহজ ১৪৪৩

অর্থনীতি-ব্যবসা

এফবিসিসিআই’র স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৩৯ ঘণ্টা, মে ১৫, ২০২২
এফবিসিসিআই’র স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ঢাকা: ‘ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স মার্চেন্ডাইজ’ বিষয়ক এফবিসিসিআই’র স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

শনিবার (১৫ মে) এফবিসিসিআই’র কার্যালয়ের বোর্ড রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, একসময় ইলেকট্রিক্যাল পণ্য আমদানি করতে হতো আমাদের। এখন প্রায় ৮০ শতাংশই দেশে তৈরি হয়। ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস খাতের প্রসারের জন্য কমপ্লায়েন্স একটি বড় ইস্যু। মানসম্মত পণ্য তৈরি করতে পারলে বিশ্ববাজারে ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের বাজার ধরা সম্ভব।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছোট-বড় সব কোম্পানিই দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। ছোট ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতে সরকারও যথেষ্ট নিরাপত্তা দিচ্ছে। তাদের জন্য নীতিমালা তৈরিতে সহযোগিতা করতে হবে আমাদের। শুধু নিজস্ব ব্যবসার উন্নতি হিসাব না করে পুরো খাতের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। এ সময় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ প্রতিষ্ঠায় জোর দিতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ইলেকট্রিক্যালসহ যেসব খাতের পণ্য দেশের বাইরে রফতানি করে রাজস্ব আয় করা সম্ভব, সেসব খাতকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।

সভায় ডিরেক্টর-ইন-চার্জ হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য পেশ করেন এফবিসিসিআই’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম এ রাজ্জাক খান রাজ।

তিনি বলেন, ব্যাংক, বীমা, স্টিল, গার্মেন্টস, চামড়াসহ প্রায় সব খাতে নীতিমালা থাকলেও ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস খাতের উন্নয়নে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। ফলে দেশের অল্প কিছু কোম্পানি (যারা বজার নিয়ন্ত্রণ করছে) ছাড়া বেশির ভাগই মন্দা অবস্থায় আছে। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বাঁচিয়ে রাখতে না পারলে তারা ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হবে। ফলে ব্যাংক ও উদ্যোক্তা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস খাতের উন্নয়নে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের সুবিধা বাড়ানো আবশ্যক।

স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাব্বাত উল্লাহ।

তার বক্তব্যে ইলেকট্রনিকস খাতে তথ্য-উপাত্তের ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করেন। এজন্য তিনি নিজ উদ্যোগে এ খাতের ডাটাব্যাংক তৈরি করে এফবিসিসিআই’র মাধ্যমে সরকারের কাছে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানান।

বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি ও কমিটির কো-চেয়ারম্যান মো. সোহেল খান সরকারের কাছে এ খাতে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের সুবিধাসহ টেলিভিশন প্রস্তুতে আলাদা শিল্পাঞ্চলের দাবি জানান।

এফবিসিসিআই’র প্যানেল উপদেষ্টা ও কমিটির কো-চেয়ারম্যান ড. কাজী ইকবাল জানান, গবেষণা ও যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত না থাকার কারণে বাংলাদেশে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস খাতের লক্ষণীয় প্রসার হচ্ছে না। এ খাতের উন্নয়নে সামগ্রিক ম্যাপিং করে কাজ করা দরকার।

সভায় নিরাপত্তা সরঞ্জাম তৈরিতে সরকারের প্রণোদনা পাওয়া, সরকারি প্রকল্পে দেশীয় কেবলের ব্যবহার বাড়ানো, দুবাই বা আফ্রিকায় ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের হাব তৈরি করা, এ খাতে সরকারের ১৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন কমিটির অন্য সদস্যরা।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি এমএ মোমেন, মো. আমিন হেলালী, পরিচালক হাফেজ হারুন, সাবেক পরিচালক খন্দকার রুহুল আমীন, কমিটির কো-চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান ও সালাউদ্দিন ইউসুফ, এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মোহাম্মাদ মাহফুজুল হক প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৯ ঘণ্টা, মে ১৫, ২০২২
কেএআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa