ঢাকা, বুধবার, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯, ১০ আগস্ট ২০২২, ১১ মহররম ১৪৪৪

আইন ও আদালত

খাদ্য নিরাপত্তার আইনি প্রেক্ষাপট

মানবাধিকার ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৩৫ ঘণ্টা, আগস্ট ২৫, ২০১৪
খাদ্য নিরাপত্তার আইনি প্রেক্ষাপট ছবি: প্রতীকী

খাদ্য নিরাপত্তা বলতে খাদ্যের লভ্যতা ও মানুষের খাদ্য ব্যবহারের অধিকারকে বোঝায়। সাধারণভাবে খাদ্য নিরাপত্তা বলতে এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যেখানে কোনো মানুষকে তার খাদ্যের সংস্থান নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হয় না।



খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও প্রাকৃতিক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। নিয়মিত আবহাওয়ার ওপর যেমন খাদ্য উৎপাদনের বাৎসরিক তারতম্য নির্ভর করে, তেমনি জলবায়ূ পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে খাদ্য উৎপাদনের ওপর।

একটি সাধারণ পরিসংখ্যান বলছে যে বিশ্ব জুড়ে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্রের জন্য ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন যাপন করছে। এ ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠীর অধিকাংশেরই বসবাস বাংলাদেশসহ অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।

এছাড়াও প্রায় ২০০ কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বাস করছে। সারাবিশ্বেই ছড়িয়ে আছে এই ২০০ কোটি ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠী।
আমাদের দেশে বর্তমানে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সেখাভে পরিলক্ষিত হয় না। তবে, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বে।  

বাংলাদেশ একটি কৃষি নির্ভর দেশ। কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব আমাদের খাদ্য নিরাপত্তাকে আরো নিশ্চিত করেছে। কিন্তু পাশাপাশি আমাদের কিছু স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ও জলবায়ূগত বিষয় আছে যার প্রভাবে খাদ্য উৎপাদন ব্যহত হয়। ঝড়, জলোচ্ছাস খরা ও অনাবৃষ্টি ইত্যাদি প্রায়শই ঘটে।

সেই সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, চাষাবাদের জমি কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো নানাভাবেই উৎপাদনকে ব্যাহত করে।

খাদ্যের অধিকার একটি মানবাধিকার। এ অধিকারটি পৃথিবীর সব দেশের সংবিধানেই স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক আইনেতো বটেই। পৃথিবীর অনেকগুলো দেশ খাদ্য অধিকারকে তাদের সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আবার অনেকেই মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে অধিকার হিসেবে সবাই স্বীকৃতি দিয়েছে।

অনেক আর্ন্তজাতিক দলিলে সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বলা হয়নি। বেঁচে থাকার অধিকার, জীবন ও জীবিকার অধিকার খাদ্যের অধিকারের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের ২৫ অনুচ্ছেদ ও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারর ওপর আন্তর্জাতিক সনদের ১১ অনুচ্ছেদে খাদ্যের অধিকারের কথাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণনা করা হয়েছে।

মানবাধিকার সনদ বলছে, Everyone has the right to a standard of living adequate for the health and well-being of himself and of his family, including food, clothing, housing and medical care and necessary social services...এছাড়া আরো কয়েকটি অধিকারের কথা সনদটিতে স্বীকৃত হয়েছে।

বাংলাদেশ উপরোক্ত দুইটি সনদেই সাক্ষর করেছে। তারই ফলশ্রুতিতে আমাদের সংবিধানেও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি স্বীকৃত হয়েছে। তবে তা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার সনদেও সাক্ষরকারী দেশ। ১৯৯০ এর দশকে সনদটিতে সই করে বাংলাদেশ।

আমাদের সংবিধানে বলা আছে, “রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাহাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়:
(ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা;”---ইত্যাদি। এই বিধানের আলোকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলো  অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা।

এখানে যদিও এ অনুচ্ছেদটি মৌলিক অধিকার অধ্যায়ের মধ্যে অর্ন্তভূক্ত না, কিন্তু তার পরেও এটিকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যদিও এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার না, কিন্তু এটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। কাজেই রাষ্ট্র তার সব নীতি ও কার্যপরিচালনার ক্ষেত্রে এ মৌলিক দায়িত্বের বিষয়টি অগ্রাধিকার দেবে। ‘রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি’র মূল বিষয় সেটিই।  

তবে, সাধারণভাবে খাদ্যের অধিকার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র শিশুদের প্রাধান্য দেবে।

আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনাতেও বলা আছে, রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে এমন একটি সমাজ  প্রতিষ্ঠা করা যেখানে সকল নাগরিকের জন্য মৌলিক মানবাধিকার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করা যায়।

কাজেই, মৌলিক মানবাধিকারের মধ্যে খাদ্যের অধিকার অর্ন্তভূক্ত। আর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করা না গেলে কেবল খাদ্য অধিকারই না, কোনো অধিকারই বাস্তবায়ন সম্ভব না।

কাজেই, আগামী দিনের খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। সেই সাথে এর প্রতিবন্ধকতাগুলো নিয়েও গবেষণা ও তা রোধ করার কৌশল প্রণয়নের দিকে জোড় দিতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩২ ঘণ্টা, আগস্ট ২৫, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa