ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মাঘ ১৪২৯, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮ রজব ১৪৪৪

জাতীয়

‘একজন আ.লীগ নেতাকে কি অপরাধে এভাবে মারল?’

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৪৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৬, ২০২২
‘একজন আ.লীগ নেতাকে কি অপরাধে এভাবে মারল?’

বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের (আলীপুর) আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান মোল্লার উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্থানীয়রা।  

এ আ.লীগ নেতার উপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বক্তারা প্রশ্ন রাখেন, একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে কি অপরাধে এভাবে মারল?

মঙ্গলবার (০৬ ডিসেম্বর) বিকালে কচুয়া উপজেলার আলীপুর ব্রিজ এলাকায় স্থানীয় দুই শতাধিক মানুষ মানববন্ধনে এ প্রশ্ন তোলেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গজালিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য মোহসিন মোল্লা, বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি লিটন শেখ ও আহত হাফিজুর রহমান মোল্লার ভাই মো. আকরাম হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে কি অপরাধে এভাবে মারল আমরা তা জানতে চাই। হামলার তিন দিনেও পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। হামলাকারীদের আটক করতে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মানববন্ধনকারীরা।

আ.লীগ নেতা মো. হাফিজুর রহমান মোল্লাকে কুপিয়ে জখমের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তোভোগী তার ভাইয়ের ছেলে রফিকুল ইসলাম।  

তিনি বলেন, রোববার (০৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে সাতটার দিকে বাদোখালী থেকে একটি জরুরি কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলাম। পথে আলীপুরের একটি রাস্তায় নির্জন স্থানে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী আমাদের উপর হামলা করে। আমার গলায় ছুরি ধরে আলীপুর এলাকার আফছার মেখ, মিজানুর শেখ, মহিদ শেখ, তুহিন শেখ, রাসেল শেখসহ ১০-১২ জন চাপাতি দিয়ে মো. হাফিজুর রহমান মোল্লা চাচাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। এক পর্যায়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে, পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সর্বশেষ পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমার চাচা বাঁচবে কিনা আমরা জানি না।

সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি লিটন শেখ বলেন, যারা হামলা করেছে তারা সবাই জামায়াত-বিএনপির ক্যাডার। হামলার তিনদিন পরেও কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করেনি। হামলাকারীদের গ্রেফতার পূর্বক শাস্তির আওতায় আনতে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আহতের বড় ভাই মো. আকরাম হোসেন বলেন, এই আমলেও যদি আওয়ামী লীগের নেতাকে মার খেতে হয় তাহলে আর কোথায় যাব আমরা। তিনদিন হয় আমার ভাইয়ের জ্ঞান নেই। বাঁচবে কি না জানি না। ওরা আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করেছিল। হামলাকারীদের কঠিন বিচার চাই আমরা।

মানববন্ধন শেষে হামলাকারীদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয়রা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সঞ্জয় কুমার বলেন, মামলাটি আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমরা ইতোমধ্যে ইমরান নামের একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছি। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ  সময়: ১৯৪০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৬, ২০২২
এসএএইচ
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa