ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

হত্যাকাণ্ডের ২৯ বছর পর আসামি গ্রেপ্তার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৩১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩
হত্যাকাণ্ডের ২৯ বছর পর আসামি গ্রেপ্তার

ঢাকা: গোপালগঞ্জের সদর এলাকায় চা দোকানি সেকান্দার হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মিজান ওরফে শাহিনকে (৪৬) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১০)।

বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা এলাকা থেকে ঘটনার দীর্ঘ ২৯ বছর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বাংলানিউজকে বিষয়টি জানিয়েছেন।  

তিনি জানান, আমরা জানতে পারি, গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন তেলিগতি এলাকায় বসবাসকারী সেকান্দার শেখ (৩০) কাঠি বাজারে চায়ের দোকান দিয়ে তার জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ১৯৯৪ সালের ১৪ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সেকান্দার প্রতিদিনের মতো চা বিক্রি শেষে তার নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করেন। পথে গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন কাঠি পশ্চিমপাড়া এলাকার কাঁচা রাস্তার ওপর পৌঁছালে আনুমানিক রাত ১০টার দিকে ওই রাস্তার পাশে ৭/৮ জন লোককে ফাঁকা জমির ওপর বসে থাকতে দেখে সেকান্দার তাদের দিকে টর্চ লাইটের আলো ফেলে।

টর্চ লাইটের আলোতে তিনি দেখতে পান ৭/৮ জন লোক সেখানে বসে গাঁজা সেবন করছে। সেকান্দার তাদেরকে গাঁজা সেবনে মৌখিকভাবে বাধা দিলে মো. মিজান ওরফে শাহিনসহ তার অন্যান্য সহযোগী মিলে সেকান্দারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে সেকান্দারের বুকে, পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।  

পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে সংবাদ দিলে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ভুক্তভোগী সেকান্দারের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে এবং মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এই হত্যাকাণ্ডের পর মৃত সেকান্দার শেখের ভাই এনায়েত শেখ বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-০৮) দায়ের করেন। মামলা দায়েরের বিষয়টি জানতে পেরে সবাই আত্মগোপনে চলে যায়। তাদের মধ্যে মো. মিজান ওরফে শাহিন ওই হত্যাকাণ্ডের পর কৌশলে মালয়েশিয়া চলে যায়। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া অবস্থান করার পর দেশে ফিরে আসে। পরে তিনি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার নাম ও পরিচয় গোপন করে লোকচক্ষুর আড়ালে জীবন-যাপন করতে থাকেন।

তিনি জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে র‌্যাব-১০ এর একটি দল চাঞ্চল্যকর চা দোকানদার সেকান্দার শেখ হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার সত্যতা স্বীকার করেছেন।  

গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩
এসজেএ/এসআইএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।