ঢাকা, সোমবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২০ মে ২০২৪, ১১ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

চায়ের কেটলির গরম পানিতে দোকানিকে হত্যা, আসামি গ্রেপ্তার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৪৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ২০, ২০২৪
চায়ের কেটলির গরম পানিতে দোকানিকে হত্যা, আসামি গ্রেপ্তার মো. বাবুল

চাঁদপুর: চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার কালচোঁ গ্রামে রাস্তার পাশের চা দোকানি আবুল কাশেম (৬৫) ৫০০ টাকার নোট ভাংতি নেই বলায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চুলার কেটলিতে থাকা চায়ের গরম পানি ঢেলে তাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. বাবুল (৪৭) নামে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তিনি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বাসিন্দা।  

শনিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে গ্রেপ্তার আসামি বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চাঁদপুর আদালতে পাঠিয়েছে শাহরাস্তি থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার বাবুল সোনাইমুড়ি থানার আমকি গ্রামের পাঠান বাড়ির মৃত লোকমান হোসেন ওরফে লোকমান ডাকাতের ছেলে।

হত্যার শিকার আবুল কাশেম শাহরাস্তি উপজেলার কালচোঁ গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই গ্রামের রাস্তার পাশের চা দোকানি।

পুলিশ জানায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে আবুল কাশেম তার দোকান খুলে বসেন। এ সময় মো. বাবুল ও তার সহযোগী দুজন মোটরসাইকেল যোগে ওই চা দোকানে বসেন। তারা তিনজন ওই দোকানে চা পান করেন এবং চা পান করা অবস্থায় সিগারেট চান। সিগারেটও দেওয়া হয়। তার বিল দেওয়ার জন্য দোকানি আবুল কাশেমকে ৫০০ টাকার নোট দেন। এত সকালে ৫০০ টাকার নোটের ভাংতি নেই বললে তাদের সাতে তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার আসামি বাবুলসহ তিনজন দোকানির মাথায় আঘাত করে এবং চুলার কেটলিতে থাকা চায়ের গরম পানি শরীরে ঢেলে চলে যায়।  

ওই অবস্থায় আবুল কাশেম চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক পৌনে ৬টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় দোকানির ছেলে মো. শরীফ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।  

মামলাটি তদন্ত করার জন্য থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মফিজুল ইসলামের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি তদন্তকালীন সময়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রেপ্তার আসামি ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মর্মে নিশ্চিত হন। এরপর শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানা পুলিশের সহযোগিতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আসামি বাবুলের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।  

গ্রেপ্তার আসামি বাবুল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন ও তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে পলাতক আসামি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানার কেগনারখিল গ্রামের পারভেজ এবং চাটখিল থানার ফতেপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরপে সোহেলসহ সোহেলের মোটরসাইকেল যোগে শাহরাস্তি থানাধীন কালচোঁ এলাকায় আসেন। চা ও সিগারেট নেওয়ার পর ৫০০ টাকার ভাংতি নিয়ে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে গরম পানি ঢেলে এবং মাথায় আঘাত করে মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।  

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৪৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ২০, ২০২৪
এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।