ঢাকা, শনিবার, ১০ আশ্বিন ১৪২৮, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬ সফর ১৪৪৩

জাতীয়

ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ঢাকার পথে যাত্রীরা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬০৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১, ২০২১
ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ঢাকার পথে যাত্রীরা

মাদারীপুর: কর্মস্থলে যোগ দিতে পথের সব ভোগান্তি মাথায় নিয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজারো যাত্রী।  

রোববার (১ আগস্ট) ভোর থেকে শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে রয়েছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

লঞ্চ চালু হওয়ায় ফেরিতে পার হওয়ার ভোগান্তি কিছুটা কমেছিল যাত্রীদের। তবে প্রথমে দুপুর ১২টার পর লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার নির্দেশনা থাকায় লঞ্চে উঠতে না পারা যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। এদিকে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগে জরিমানা করায় লঞ্চ মালিক সমিতি এক ঘণ্টা লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখে। পরে দুপুরে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত লঞ্চ চালু রাখার সরকারি ঘোষণা আসায় দুপুর ১২টা থেকে আবার লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। তবে লঞ্চ মালিক সমিতি সূত্র জানায় যে রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত লঞ্চ চলবে।
 
রোববার দুপুর ২টায় বাংলাবাজার ফেরিঘাটেও যাত্রী এবং যানবাহনের ভিড় দেখা গেছে। তবে সকালের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা কিছুটা কমেছে দুপুরে।

বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৩১ জুলাই) থেকেই নৌরুটে যাত্রীদের ঢল নামে। সারাদিনে ফেরিতে হাজার হাজার মানুষ পদ্মা নদী পার হন। রোববার যাত্রীদের বিষয়টি মাথায় রেখে ভোর থেকে লঞ্চ চালু হলে ফেরিতে কিছুটা চাপ কমে। তবে যাত্রীর সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় লঞ্চ এবং ফেরিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। নৌরুটে রোববার ভোর থেকে ১০টি ফেরি চলাচল করছে। শনিবারের চেয়ে রোববারের পরিস্থিতি কিছুটা ভালো বলে ফেরিঘাট সূত্র জানিয়েছে। শ্রমিকদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বাস ও লঞ্চ চলাচল শুরু করেছে। বাস চলাচল শুরু করলেও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে মাইক্রোবাস, মাহিন্দ্রা, পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেলে করেও ঘাটে আসছেন যাত্রীরা। সব যানবাহনেই বাড়তি ভাড়ার চাপ রয়েছে।  

ঢাকাগামী যাত্রীরা জানান, এ রুটে বাড়তি ভাড়া গুণেই গন্তব্যে যেতে হয়। এখন দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। ঘাটে আসতে সব গাড়িতেই বাড়তি ভাড়া। আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ। বেতনের বেশির ভাগই খরচ হয়ে যায় যানবাহনে। এ কষ্টের দিনে ভাড়া কেন অতিরিক্ত রাখবে? কেউ কিছু বলে না। আমরা দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে শুধু ছুটে বেড়াই!

মো. জাফর নামে এক যুবক বলেন, লঞ্চ চলাচল করায় কিছু ভোগান্তি কমেছে। অন্তত রোদে পুড়তে হয় না লঞ্চে পার হলে।

অপর এক যাত্রী বলেন, ফেরিতে গরু-ছাগলের মতো যাত্রীদের পার হতে হয়। রোদ আর গরমে দুই ঘণ্টা গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ফেরিতে। লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকলে এ ভোগান্তি কিছুটা দূর হবে।

লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, বাংলাবাজার ঘাট থেকে প্রশাসনের উপস্থিতিতেই গুণে গুণে যাত্রী তোলা হয় লঞ্চে। ঘাটে হাজার হাজার যাত্রীর চাপ। এর মধ্যেও লঞ্চগুলো ধারণ ক্ষমতার কম যাত্রী নিয়েই ছেড়ে যাচ্ছে। অথচ শিমুলিয়া পাড়ে যাওয়ার পর জরিমানা করা হয় লঞ্চগুলোকে। এ কারণে লঞ্চ মালিকেরা লঞ্চ না চালানোর সিদ্ধান্ত নিলে এক ঘণ্টা বন্ধ ছিল লঞ্চ চলাচল। এ নিয়ে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করার পর দুপুর ১২টা থেকে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। রাত ১০টা পর্যন্ত লঞ্চে যাত্রী পার করা হবে।

বিআইডব্লিউটিএ'র বাংলাবাজার লঞ্চ ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, রোববার সকাল থেকেই ঢাকাগামী যাত্রীদের ভিড় রয়েছে ঘাটে। নৌরুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী লঞ্চে পার করা হচ্ছে। যাত্রীদের মাস্ক পড়া নিশ্চিত করতে মাইকিংও করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৫৬ ঘণ্টা, আগস্ট ১, ২০২১
এসআই
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa