ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৪ মে ২০২২, ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

২০০ মেট্রিক টন আখের রস ড্রেনে ফেলায় পাঁচ কর্মকর্তাকে শোকজ 

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩৪৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৮, ২০২২
২০০ মেট্রিক টন আখের রস ড্রেনে ফেলায় পাঁচ কর্মকর্তাকে শোকজ 

নাটোর: নাটোরের লালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে যান্ত্রিক ত্রুটিসহ কর্তব্যে অবহেলায় মাড়াই কার্যক্রম ব্যাহত ও মাড়াইকৃত প্রায় ২০০ মেট্রিক টন আখের রস ও সিরাপ ড্র্রেনে ফেলে দেওয়ার (ড্রেনআউট) অভিযোগে পাঁচ কমকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ওই শোকজের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কৃষিবিদ হুমায়ুন কবির বাংলানিউজকে এতথ্য নিশ্চিত করে বলেন, শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করা হবে। শোকজ প্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন- ফ্যাক্টরি ম্যানেজার, ডেপুটি চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ম্যানেজার (উৎপাদন) ও দু’জন ডেপুটি ম্যানেজার (উৎপাদন)।

মিলের এমডি বলেন, গত মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারী) দিনগত রাতে বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার কারণে টানা ৭ ঘণ্টা মিলে আখ মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ফলে এই সময়ে মাড়াইকৃত আখের রস ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়। এর আগেও চলতি মৌসুমের গত ৫ ও ৭ ডিসেম্বর রাত দুইটা হতে ভোর ৫টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা করে মাড়াই বন্ধ থাকে। সেসময়ও একইভাবে মাড়াইকৃত রসসহ তরল চিনি ফেলে দেওয়া হয়।  

কারন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ওইদিন ফ্যাক্টরির ফ্যান বোর্ডে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় স্টিম উৎপাদন বন্ধ ছিল। এতে জরুরী বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। এই বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার কারণে মঙ্গলবার রাতে টানা ৭ ঘণ্টা আখ মাড়াই বন্ধ রাখতে হয়। এতে মিলের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

তিনি জানান, মিলের বর্তমান মাড়াই ক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। এখানে রস ধারণের ক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। রস প্রক্রিয়াকরণ করতে ১৩ থেকে ১৪ কেজি গরম বাষ্প প্রয়োজন হয়। রস প্রক্রিয়া করতে যথেষ্ট পরিমাণ গরম বাষ্প না পাওয়া না গেলে চিনির স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হয়। ফলে মিলটি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ঘটনায় যান্ত্রিক ত্রুটি থাকলেও দায়িত্বরত কর্মকর্তাগণ ওইদিন কর্তব্যে অবহেলা করেছেন এবং কর্তপক্ষকে না জানিয়ে মাড়াইকৃত আখের রস ফেলে দেওয়ায় তারা দায়িত্ব জ্ঞানহীন কাজ করেছেন। এছাড়া মিলটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।   

এদিকে মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) নবনির্বাচিত সভাপতি খন্দকার শহীদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মমিন বাংলানিউজকে বলেন, আখ না পাওয়ায় আগামী ৩০ জানুয়ারি মিলের মাড়াই মৌসুম সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে। আখ সংগ্রহ কমিটি থাকলেও প্রত্যক্ষভাবে তাদের কার্যক্রম চোখে পড়ে না। ড্রেনে ফেলে দেয়া আখের রস প্রসঙ্গে তারা বলেন, ড্রেনআউট করা সিরাপ ও রস পরীক্ষায় চিনির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কাজেই রস ফেলে দিয়ে তারা মিলের আর্থিক ক্ষতি করেছেন। এ ব্যাপারে সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তা না হলে মিলের অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করা যাবে না। তারা বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ও লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিনিকলটিকে টিকিয়ে রাখতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তবে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

তবে এ ব্যাপারে মিলের মহাব্যবস্থাপক (ফ্যাক্টরি) আনোয়ারুল ইসলাম বাংলািউজকে বলেন, মিলের ক্রাসিং বন্ধ থাকলে বয়লার হিটারের ভেতর কাঠের প্লাগ চুয়ে কিছু রস পড়তে পারে। এই রসের সঙ্গে কোনও চিনি থাকে না। বিষয়টি নিয়ে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে। কাজেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দেবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। যদি তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হোন, তাহলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

এ ব্যাপারে মিলের শ্রমিকরা জানান, এটা কোনো নতুন ঘটনা নয়। মিলের জন্মলগ্ন থেকে এভাবে প্রতিবারের আখের রস ড্রেনআউট করা হয়। এ বিষয়ে কেউ আগে কখনও ভাবেনি।  

বাংলাদেশ সময়: ২৩৪৬ ঘন্টা, জানুয়ারি ২৮, ২০২২
এমএইচএম 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa