ঢাকা, শনিবার, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

রাজনীতি

তিন দিনের রিমান্ডে মুজাহিদ

আদালত প্রতিবেদক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৫১০ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০১০

ঢাকা: পল্লবী থানায় দায়ের হওয়া ‘মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা’ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।


ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের বিচারক রোকসানা বেগম হ্যাপী বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।


তবে নিজামী রমনা থানার ফারুক হত্যা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে থাকায় তার রিমান্ড শুনানি হয়নি।


দুপুর ১২ টায় কড়া নিরাপত্তায় মুজাহিদকে আদালতে আনা হয়। পরে দুপুর ১ টা ৫০ মিনিটে মুজাহিদকে কোর্ট হাজত থেকে এজলাসে আনা হয়।


মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মহানগর অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর) শাহ আলম তালুকদার আদালতকে জানান, মুজাহিদ সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি ও রাজাকার বাহিনীর সংগঠক। মুজাহিদ ও অন্য আসামিদের নেতৃত্বে বিভিন্ন বাহিনী গঠন করে পাক হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেন। তাদের নেতৃত্বে এজাহারে অন্তর্ভুক্ত অন্য আসামিরা আলোকদী গ্রামের ৩৪৪ জন মানুষকে হত্যা করে।


এ হত্যাকাণ্ডে কারা কারা জড়িত ছিল তা জানতে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তিনি।


আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না। ’


রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই এ মামলায় রিমান্ড চাওয়া হয়েছে জানিয়ে মুজাহিদের জামিন প্রার্থনা করেন তিনি।
গত ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর দায়ের করা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পরে তাদের আরও ৮টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পল্টন, রমনা ও উত্তরা থানার মোট ৫ টি মামলায় তাদের ৪৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত আলাদা আলাদাভাবে মোট ১৬ দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেন।


উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ২০০৮ সালের ২৪ জানুয়ারি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।


আদালত মামলাটি এজাহার হিসাবে নেওয়ার জন্য পল্লবী থানাকে নির্দেশ দেন।


২৫ জানুয়ারি পল্লবী থানায় মামলাটি এজাহার হিসাবে রেকর্ড করা হয়। জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা, জামায়াতের কার্যনিবার্হী পরিষদের সদস্য মীর আবুল কাশেমসহ ১০ জনকে এজাহারভুক্ত করে ৭০ জনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে এ মামলা দায়ের করা হয়।  
মামলার আরজিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল ফজরের নামাজের পর আসামিদের নেতৃত্বে ৬০/৭০ জন লোক মিরপুরে তুরাগ নদীর পাশে আলোকদী গ্রামে ঘর থেকে বের করে এনে ৬৪ জন এবং বিভিন্ন জেলা থেকে ধান কাটতে আসা ২৮০ কৃষিশ্রমিককসহ ৩৪৪ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ৩ টি কুয়ায় ফেলে দেয়। বাদি ও তার পরিবার পুকুরের কচুরীপানার নিচে লুকিয়ে প্রাণে রা পান।
বাদি অভিযোগ করেন, আসামিরা সেদিন তার ২১ জন আত্মীয়কে হত্যা করে।


রাষ্ট্রপে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর) মো. কবির হোসাইন, বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) কামরুল হাসান খান আসলামসহ ২৫/৩০ জন আইনজীবী।


আসামিপে মামলার শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মশিউল আলম, কামালউদ্দিন আহমেদসহ ২৫/৩০ জন আইনজীবী।


বাংলাদেশ সময়: ১৬৩৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০১০




বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa