ঢাকা, বুধবার, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

খেলা

মোহামেডানে কুপোকাত আবাহনী

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৬২৭ ঘণ্টা, জুলাই ১৩, ২০১০
মোহামেডানে কুপোকাত আবাহনী

ঢাকা: গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ার বিভাগ হকি লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং।

মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে দিনের অপর খেলায় লেমন হোসেনের হ্যাটট্রিকসহ ৫ গোলের সুবাদে ওয়ারি কাব ৬-২ এ বিধ্বস্ত করে বাংলাদেশ স্পোর্টিংকে।



ঘরোয়া হকির দুই চির প্রতিপক্ষ মোহামেডান ও আবাহনী লিগের প্রথম মুখোমুখিতে একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অভিযানে নামে। বিদেশি নির্ভর আবাহনী একাদশ সাজায় পাঁচ পাকিস্তানি দিয়ে। অন্যদিকে তারকা সমৃদ্ধ মোহামেডানে খেলেছে তিন বিদেশি। তাদেরকেও আনা হয়েছে পাকিস্তান থেকে। তবে বিদেশি নয়, খেলায় ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন স্থানীয় খেলোয়াড়রাই।

বড় ম্যাচে যেমনটি হয়, বেশি চাপে থাকায় গুছিয়ে খেলতে পারেনি কোনো দলই। শুরুতে আবাহনী কিছুটা প্রাধান্য দেখালেও ধারাবাহিকতা ছিলো না। প্রথমার্ধেই দুটি পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করতে পারেননি দলের পাকিস্তানি পেনাল্টি কর্নার বিশেষজ্ঞ সোহেল আব্বাস।

২০ মিনিটে প্রথম পিসি থেকে বল বাইরে পাঠান। ৩৩ মিনিটে দ্বিতীয় পিসি থেকে গোলপোস্টে পুশ নেওয়ার আগেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় আবাহনী।

মোহামেডান গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করে ৩১ মিনিটে। গোলমুখে জিমি বাড়িয়ে দেওয়া বল বাইরে পাঠান কামরুজ্জামান রানা। তবে বিরতির আগের মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় সাদাকালো শিবির। জিমির কাছ থেকে বল পেয়ে গোল শট নেন মুসা মিয়া। শেষ মুহূর্তে বলে স্টিক লাগিয়ে গোল নিজের করে নেন মোহাম্মদ সাব্বির।

খেলায় সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে আবাহনী। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ধীরেই গুছিয়ে নেয় মোহামেডান। ৫১ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়। গোল করেন জাহিদুল ইসলাম রাজন।

৬৫ মিনিটে আব্দুস সাজ্জাদ জনের পাস থেকে গোলপোস্টের কাছেই থাকা জিমির হিট আটকাতে পারেননি আবাহনীর পাকিস্তানী গোলরক্ষক।

ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে (৭০ মি:) আবারো পেনাল্টি কর্নার পায় আবাহনী। কিন্তু এবারো বল বারের ওপর দিয়ে মারেন আব্বাস।

ম্যাচ শেষে আবাহনী কোচ কাওসার আলী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন,‘‘ দল খারাপ খেলেনি। প্রথমার্ধেই দুটি পিসি থেকে গোল করতে পারলে আমরা খেলায় এগিয়ে যেতে পারতাম। সোহেল আব্বাসের এতগুলো পিসি নষ্ট করা অবিশ্বাস্য। মোহামেডানও খারাপ খেলেনি। তারা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পেরেছে যেটা আমরা পারিনি। ’’

অন্যদিকে জয়ী দলের কোচ জহিরুল ইসলাম মিতুল বলেন,‘‘আমাদের লক্ষ্য ছিল আবাহনীকে পেনাল্টি কর্নার দেবো না। কিন্তু সেটা তারা পেয়ে গেলে আমরা আব্বাসকে চাপে রাখার কৌশল নেই। এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে তার স্বদেশী সাকলায়েন। কৌশলে আব্বাসকে নার্ভাস করতে পারায় ও পিসি থেকে গোল আদায় করতে পারেনি। ’’

এ জয়ের ফলে আট খেলায় ২৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকেই প্রথম রাউন্ড শেষ করলো মোহামেডান। সমান খেলায় আবাহনীর সংগ্রহ ২৪ পয়েন্ট।

লিগে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে সুপার ফাইভের খেলা। মোহামেডান এবং আবাহনী ছাড়া সুপার ফাইভের অন্য দলগুলো হচ্ছে সোনালী ব্যাংক এসআরসি, মেরিনার ইয়াংস ও অ্যাজাক্স এসসি।

বাংলাদেশ সময়: ২১৪১ ঘন্টা, জুলাই ১৩, ২০১০


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa