বাঁশখালীবাসী বলছেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে মাঠে আছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটন। আছেন অন্য দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থী ও মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও।
এক সময় জামায়াত-বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত ছিল সাগর, নদ-নদী, পাহাড় আর সমতল মিলে দুর্গম এ জনপদ। সেখানে নানা গুজব ছড়িয়ে তাণ্ডব চালানো হতো। কিছু কিছু এলাকায় দিন-দুপুরেও যাওয়ার সাহস পেতেন না প্রতিপক্ষের লোকজন।
নগরীর বাকলিয়ার শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকা থেকে বাঁশখালী সদর জলদির উদ্দেশে শেয়ারে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ছাড়ে। জনপ্রতি ভাড়া ১২০ টাকা। এক অটোরিকশায় পাঁচজন যাত্রী। শহরের কর্মস্থল থেকে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন তারা।
তাদেরই একজন তরুণ শোয়েব বাংলানিউজকে বলেন, এক সময় জামায়াতের ভোটব্যাংক ছিল বাঁশখালীতে। একের পর এক নাশকতার মামলা, পুলিশি তৎপরতায় ঘরছাড়া নেতাকর্মীরা, প্রকাশ্যে দলীয় কর্মকাণ্ড চালাতে না পারা, তহবিল সংকটসহ নানা কারণে এখন আর সে দাপট নেই জামায়াতের। বিএনপির অবস্থা আরও করুণ। কোন্দল, নেতাদের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের দূরত্ব আর অঙ্গ সংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি কমিটিতে লেজেগোবরে অবস্থা দলটির।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাধনপুর, প্রেমাশিয়া, খানখানাবাদ, কালীপুর, সরল, গণ্ডামারা, পুঁইছড়ি-প্রেমবাজার, চাম্বল, বৈলগাঁও, বাণীগ্রাম, কাতারিয়া, শেখেরখীল, বৈলছড়ি, বাহারছড়া, পৌরসভার মহাজনপাড়া, আসকরিয়া পাড়াসহ হাট-বাজারের চায়ের দোকানগুলোতেও জমে উঠেছে নির্বাচনী আলোচনা।
তৈলারদ্বীপ সেতু এলাকার আরেক তরুণ মফজল আহমদ বলেন, এ আসনে দলীয় ভোটারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সাধারণ ভোটার। তারা দলীয় আদর্শ নয়, চান উন্নয়ন। যারা দল করেন, তারা নৌকা বা ধানের শীষে ভোট দেবেন। কিন্তু সাধারণ ভোটাররা ভাবছেন, কাকে ভোট দিলে এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হবে। এক্ষেত্রে তারা দেখবেন প্রার্থীর যোগ্যতা ও জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা।
ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের স্থায়ী ইউপি কার্যালয় নেই। ভাড়া করা কার্যালয়ে পরিষদের কাজ চালাচ্ছি। এখানকার মানুষের ৮০ শতাংশই লবণ মাঠ ও চিংড়ি ঘেরের ওপর নির্ভরশীল। রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। ঈদের আগে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে ভাঙা ইট এনে বিছিয়ে চলার উপযোগী রেখেছি। তিনি বেশ কিছু গভীর নলকূপও দিয়েছেন’।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জানিয়ে এ ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, বাঁশখালীতে দলীয় প্রার্থীর অনেক সুবিধা আছে। কিন্তু জনপ্রিয় মানুষের মূল্যায়নও হয় ব্যালটে। স্বাভাবিকভাবে যারা এলাকার জন্য কাজ করছেন, গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে থাকছেন, তাদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ছনুয়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট এলাকার চায়ের দোকানে বসে স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে। যদিও ভোটের ক্ষেত্রে টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবও কম নয় বাঁশখালীতে। তবুও একেক এলাকায় একেকজন প্রার্থীর ভোটব্যাংক রয়েছে।
নাপোড়ার আজিজুল করিম মনে করেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার নিয়ে সরকারের যে মহাপরিকল্পনা, তার সঙ্গে জড়িত বাঁশখালীবাসীর ভাগ্য। বাঁশখালীর ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে হলে সংসদে যোগ্য জনপ্রতিনিধিকেই পাঠাতে হবে। ভোটের সমীকরণ জটিলতর বলে সাদাসিধে প্রার্থী এ আসনে জিততে পারবেন না। ধারেও কাটতে হবে, ভারেও কাটতে হবে।
এক্ষেত্রে হেভিওয়েট প্রার্থী আসতে পারেন প্রধান দু’দলেই।
তিনি জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটন নির্বাচনী মাঠে থাকলেও অনেকের ধারণা, মুজিবুর রহমান এবার নতুন চমক দেখাতে পারেন। বিএনপির জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী ও জামায়াতের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম চৌধুরী স্ব স্ব দল-জোটের হয়ে ভোটে লড়তে চান।
আল-রাহমান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলাদেশ সময়: ১৫৫০ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০১৭
এআর/টিসি/এএসআর