তাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
আহতরা হচ্ছে, মির্জাপুরের সাফায়েত রহমান ইরাম, জনি আহম্মেদ, ঢাকার তেজগাঁও এলাকার সিয়াম চৌধুরী, বগুড়া জেলার সান্তাহার গ্রামের আলহাজ্ব বাবলু শেখের ছেলে নাফি শেখ ও একই জেলার তালরা গ্রামের আলহাজ্ব ছামাদ মিয়ার ছেলে রিজভী আহম্মেদ।
আহত শিক্ষার্থীরা জানায়, শুক্রবার (৫ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নবম শ্রেণির কয়েক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাক-বিতণ্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ভবনের পরিচালক বাবুল হোসেনের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করে। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি দশম শ্রেণির ১০/১২ জন শিক্ষার্থীকে ভবনের একটি কক্ষে ডেকে দরজা বন্ধ করে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করেন।
বগুড়া জেলার তালোরা এলাকার আলহাজ্ব সামাদ মিয়ার ছেলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী রিজভী প্রতিবাদ করায় ভবনের পরিচালক ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড গরম করে রিজভীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেন। এসময় রিজভী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অন্য শিক্ষার্থীরা রিজভীসহ আহত ৫ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনার পর ৫/৬জন শিক্ষার্থী আবাসিক ভবন থেকে পালিয়ে গেছে বলেও জানায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আহত জনি আহম্মেদের বাবা হানিফ মিয়া বলেন, ‘এ ঘটনার পরপরই আমরা থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম কিন্তু প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আসলাম মিয়া মামলা করতে বাধা দেন এবং বলেন মামলা করলে আমাদের প্রতিষ্ঠানের কিছুই হবে না। যদি ভাল না লাগে তাহলে আপনার ছেলেকে প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়ে যেতে পারেন’।
মারধরের ঘটনার বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি বলে জানান আহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। এভাবে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তারা।
এ বিষয়ে শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আসলাম মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি এতো জটিল কিছু হয় নয়। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে’।
এছাড়া তিনি অভিভাবকদের মামলা করতে কোন প্রকার বাধা বা হুমকি দেননি বলেও জানান।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৪৬ ঘণ্টা, মে ০৬, ২০১৭
আরএ