ঢাকা, শনিবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৫ মে ২০২৪, ১৬ জিলকদ ১৪৪৫

এভিয়াট্যুর

অন টাইমে রিজেন্টে উড়ে মালয় দ্বীপে

জাকারিয়া মন্ডল, সিনিয়র আউটপুট এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯২০ ঘণ্টা, মে ১৬, ২০১৬
অন টাইমে রিজেন্টে উড়ে মালয় দ্বীপে ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কুয়ালালামপুর থেকে: নির্ধারিত সময়ের মিনিট পাঁচেক আগেই সচল হলো চাকা। শাহজালালের রানওয়েতে গড়াতে শুরু করলো রিজেন্ট এয়ারওয়েজের বহরে নতুন যোগ হওয়া বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এর আজদাহা শরীর।

মিনিট দু’তিন দুলকি চালে ছোটার পর দৌড় শুরু করলো প্লেন।

অন টাইমেই ঢাকার আকাশে উড়লো কুয়ালালামপুরগামী ফ্লাইট। এয়ারপোর্টে অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার আরিফ অনটাইমে যাত্রাশুরুর যে আশ্বাস দিয়েছিলেন তার প্রমাণ মিললো। নাক উঁচু করে মেঘের রাজ্য ছাড়িয়ে ৩০ হাজার ফুট উপরে উঠে গেলো আরএক্স ০৭৮২ নম্বর ফ্লাইট। মাঝরাতের নিকষ আঁধারে জানালার ওপাশে আটকে গেলো দৃষ্টি। অগত্যা নজর প্লেনের পেটেই।

১২২ আসনের সব ক’টিই পূর্ণ। সবাই মূলত মালয়েশিয়াগামী শ্রমিক। তাদের প্রতি ক্রুরা মনোযোগী, আন্তরিক। প্লেনের আসনও আরামদায়ক। তাতে শরীর এলিয়ে দিতে না দিতেই ট্রে ভর্তি খাবার এসে হাজির।

ফ্রায়েড রাইসের সঙ্গে চিকেন কারি আর ডিম সেদ্ধ। সঙ্গে ফিরনি আর কেক। কোমল পানীয়ের পর কফিও এলো পটে।
এরপর আকাশে ভেসে শুধু এগিয়ে চলা। একসময় নজরে এলো মালয় উপদ্বীপের নানা রঙা আলো। একেকটা শহর-জনপদ যেনো আলোকমালার বিচিত্র রেখায় একেক রকম নকশা হয়ে শুয়ে আছে প্লেনের নিচে।

ঢাকা থেকে রাত ১১টা ২০ মিনিটে উড়াল দেওয়া রিজেন্ট এয়ারের এই প্লেনটির গন্তব্যে পৌছার কথা ছিলো স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ৩৫ মিনিট আগেই রাত পৌনে পাঁচটায় কুয়ালালামপুরে মালয় উপদ্বীপের মাটি ছুঁলো বোয়িং।

বর্তমানে চারটি এয়ারক্র্যাফট দিয়ে ঢাকা-মাসকাট, ঢাকা-কুয়ালালামপুর আর ঢাকা-ব্যাংকক ফ্লাইট পরিচালনা করছে রিজেন্ট। এগুলোর মধ্যে তিনটিই বোয়িং। অপরটি কানাডার বোমবারডিয়ার কোম্পানির তৈরি ড্যাশ-৮ কিউ ৩০০ এয়ারক্র্যাফট। এই এয়ারক্র্যাফট দিয়েই ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে রিজেন্ট। মাটি ও আকাশে অতুলনীয় সেবা, নিরাপত্তা ও আরামের সমন্বয় ঘটিয়ে অল্প সময়েই উঠে  যায় যাত্রীদের পছন্দের তালিকায়। সব ফ্লাইটই অনটাইমে চালাচ্ছে তারা।

শিগগিরই নেপালের কাঠমান্ডু, ভুটানের পারো, ভারতের কলকাতা  ওচেন্নাই, আরব আমিরাতের শারজাহ, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা, শ্রীলংকার কলম্বো, মালদ্বীপের মালে আর ব্যাংকক-সিউল ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা আছে তাদের।

শুধু গন্তব্যে পৌছাই নয়, যাত্রাকে উপভোগ্য ও স্মরণীয় করে তুলছে সদা সচেষ্ট রিজেন্ট। এই এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ৮ কেজি পর্যন্ত পোষা কুকুর, বিড়াল ও পাখি পরিবহনের সুযোগ আছে। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আছে হুইল চেয়ার। শিশুদের বিনোদনের জন্য আছে বিশেষ ব্যবস্থা।

বর্তমানে সপ্তাহে ৫ দিন রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে কুয়ালালামপুরের ফ্লাইট ছাড়ছে ঢাকা থেকে। সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ২০ মিনিটে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে উড়ছে ফিরতি ফ্লাইট।

সপ্তাহে ৪ দিন রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শুক্রবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ব্যাংককগামী ফ্লাইট ছাড়ছে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২০ মিনিটে। ওই চারদিনই স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে ব্যাংকক থেকে ঢাকা অভিমুখে ফ্লাইট ফিরে আসছে।

ঢাকা টু কলকাতা ফ্লাইট ছাড়ছে প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১০ মিনিটে। কলকাতা থেকে ফিরে আসছে স্থানীয়সময় দুপুর ২টায়।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ওমানের মাসকাটগামী ফ্লাইট সপ্তাহে ৪ দিন রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শুক্রবার ছাড়ছে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া সাতটায়। ফিরতি ফ্লাইট ছাড়ছে স্থানীয় সময় শনি, সোম, বুধ ও শুক্রবার রাত পৌনে একটায়।

অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে প্রতিদিন ফ্লাইট যাচ্ছে সকাল ৮টা, বেলা ৩টা ও রাত আটটায়। এছাড়া রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শুক্রবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে এবং সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইট ছাড়ছে।

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন ঢাকার উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ছাড়ছে সকাল ৯টা ১০, বিকেল ৪টা ১০ ও রাত ৯টা ১০ মিনিটে। এছাড়া শনি, সোম, বুধ ও শুক্রবার সকাল ৮টায় এবং রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ছাড়ে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজারে প্রতিদিন ফ্লাইট যাচ্ছে বেলা ১১টায়। কক্সবাজার থেকে ফিরতি ফ্লাইট ছাড়ছে বেলা ১২টা ২০ মিনিটে।

ঢাকা-কুয়ালালামপুর-ঢাকা রিটার্ন টিকিটের ভাড়া ২৮ হাজার ৩৯৩ টাকা, ঢাকা-ব্যাংকক-ঢাকা রিটার্ন টিকিটের ভাড়া ২৩ হাজার ৯৭৩ টাকা, ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রিটার্ন টিকিটের ভাড়া ১১ হাজার ৪১১ টাকা, ঢাকা-মাসকাট-ঢাকা রিটার্ন টিকিটের ভাড়া ৩৯ হাজার ৪৭৮ টাকা।

অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রিটার্ন টিকিটের ভাড়া ৭ হাজার ৪০৮ টাকা এবং ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রিটার্ন টিকিটের ভাড়া ৯ হাজার ৬০৮ টাকা।

এই রিজেন্ট কিন্তু হাবিব গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম ভিত্তিক এই শিল্প গ্রুপের আছে বিদ্যুৎ, স্টিল ও তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্পিনিং, সিমেন্ট, কাগজ ও সার কারখানা।

বাংলাদেশ সময়: ০৯১৫ ঘণ্টা, মে ১৬, ২০১৬
জেডএম/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।