ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৩০ মে ২০২৪, ২১ জিলকদ ১৪৪৫

আওয়ামী লীগ

ইসি গঠনে নতুন প্রস্তাব দেবে না আ’লীগ

শামীম খান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭০৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৯, ২০১৭
ইসি গঠনে নতুন প্রস্তাব দেবে না আ’লীগ

ঢাকা: নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নতুন কোনো প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে না। সংলাপে রাষ্ট্রপতির পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন থাকার কথাই জানিয়ে আসবে দলটি। এমনটি জানাচ্ছেন দলের নীতি নির্ধারকরা।

নতুন ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসবেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।

ইতোমধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টি (এরশাদ), ওয়ার্কার্স পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, জাসদসহ (ইনু) ১৪টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে। এসব দলের পক্ষ থেকে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি আইন করার প্রস্তাবও রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ ধরনের আইন বা নতুন কোনো প্রস্তাব দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে দলের নীতি নির্ধারক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

নেতারা জানান, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের এ ধারা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। বর্তমান নির্বাচন কমিশন (আগামী ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হবে) যেভাবে গঠিত হয়েছিল আগামী নির্বাচন কমিশনও সেভাবে গঠনের পক্ষে আওয়ামী লীগ।

এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসি গঠন নিয়ে নতুন করে কোনো সমালোচনা, বিতর্ক বা রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হতে দেবে না আওয়ামী লীগ। তাই সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান পদ্ধতি অনুসরণের প্রস্তাবই দেবে দলটি। আর এ সংক্রান্ত আইন করার যে কথা উঠেছে সেটা পরবর্তীতে চিন্তা-ভাবনা করা হবে বলে নেতারা জানান।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান নির্বাচন কমিশন গঠন করতে প্রথমে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে মতামত নেন। এরপর সার্চ কমিটি করে তিনি নির্বাচন কমিশন গঠন করেন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতিও প্রথমে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী অতীতে যে পদ্ধতিতে ইসি গঠন করা হয়েছে নতুন ইসিও সেই পদ্ধতিতে গঠন করা হবে। আওয়ামী লীগ এটাই প্রত্যাশা করে।
 
এদিকে সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের ৩ উপ-ধারায় বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অন্য সব সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। সে অনুযায়ী নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করবেন রাষ্ট্রপতি। তাই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে বিশেষ কোনো প্রস্তাবের প্রয়োজনীয়তাও মনে করছেন না দলটির নীতিনির্ধারকেরা। তবে সংলাপে অংশ নিয়ে এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির যে কোনো সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন থাকার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে তারা জানান। সংলাপের জন্য প্রস্তাব তৈরি করতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এ কাজে দায়িত্বপ্রাপ্তদের একজন। তার কাছে প্রস্তাবের বিষয়ে জানাতে চাওয়া হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে। আমরা নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে মোটামুটিভাবে রাষ্ট্রপতির উপর দায়িত্ব দেবো। তিনি সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে একটা আইন করার কথা উঠেছে। কিন্তু এই আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সময় হাতে নেই। তাই সংবিধান অনুযায়ীই রাষ্ট্রপতি আগামী নির্বাচন কমিশন গঠনের সকল পদক্ষেপ নেবেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৩০৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৯, ২০১৭
এসকে/আরআর/এএ

 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।