ঢাকা, বুধবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৯ মে ২০২৪, ২০ জিলকদ ১৪৪৫

আওয়ামী লীগ

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৫৫৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩, ২০২০
সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার

ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার (৩ জানুয়ারি)। 

গত ২০১৯ সালের এই দিনে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৮ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বিপ্লবী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক চক্র হত্যার পর ৩ নভেম্বর কারাগারে সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যুক্তরাজ্য চলে যান। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে তিনি যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসকালে সৈয়দ আশরাফ লেবার পার্টির সদস্য হন এবং যুক্তরাজ্যের রাজনীতির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অষ্টম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের সদস্য সৈয়দ আশরাফ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সৈয়দ আশরাফ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর তিনি আবারও ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি এক কন্যাসন্তানের জনক। তার স্ত্রী শিলা ইসলাম ২০১৭ সালের অক্টোবরে মারা যান।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধেও সময় তিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আশরাফুল ইসলাম ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। মুক্তিবাহিনীর সদস্য হিসেবে ভারতের উত্তর প্রদেশের দেরাদুনে প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার ভূমিকা ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। ওই সময় তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গ্রেফতার হওয়ার পর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পদকের দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে এবং শেখ হাসিনার মুক্তি ও সাধারণ নির্বাচনের দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১২ সালেও তিনি পুনরায় সাধারণ সম্পাদক হন আওয়ামী লীগের। ২০১৬ সালে সম্মেলনে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে দলটি।

বাংলাদেশ সময় ০০৫৬ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৩, ২০২০
এসকে/এএটি/এমএমএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।