ঢাকা, বুধবার, ২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১৮ মহররম ১৪৪৪

বইমেলা

একুশের চেতনায় বইমেলায় বাঁধভাঙা জোয়ার

আদিত্য আরাফাত, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫১৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৫
একুশের চেতনায় বইমেলায় বাঁধভাঙা জোয়ার ছবি: জাহিদ সায়মন- বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

গ্রন্থমেলা থেকে: রং-তুলির ছোঁয়ায় শরীরে বাংলা বর্ণমালা। কেউবা শরীরে অঙ্কন করেছেন শুধুই ২১, কারো টি-শার্টের বুক বরাবর ছিল ভাষাশহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরের প্রতিকৃতি।

বাদ যায়নি ছোট ছোট শিশুরাও। তাদের গালে-কপালে আঁকা ছিল জাতীয় পতাকা ও শহীদ মিনারের প্রতীক। এমন চিত্রই ছিল ২১ ফেব্রুয়ারির অমর একুশে গ্রন্থমেলায়।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মেলার দর্শনার্থীদের মধ্যে একুশের সাজে সজ্জিত ছিলেন অনেকেই। বর্ণমালা লেখা বাহারি কাপড়, কালো শাড়ি, পাঞ্জাবি ও ফতুয়া পরে এসেছিলেন নারী-পুরুষরা।

সকাল ৮টায় বইমেলার দুয়ার খোলা হলেও এর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই বাংলা একাডেমি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিল লাখো মানুষের পদচারণা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রভাতফেরি শেষে জনতার একাংশ আসে বইমেলার দিকে।

মানুষের বাঁধভাঙা প্রাণের জোয়ার প্রমাণ করেছে, একুশ এবং একুশে বইমেলা তাদের জীবনে কখনও ম্লান হওয়ার নয়।

বেলা গড়াতেই বইপ্রেমীদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে বইমেলা প্রাঙ্গণ। বেলা যতো বাড়তে থাকে মেলায় প্রবেশের জন্য লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে।

দু’টি প্রবেশপথে দু’টি করে চারটি সারিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। দক্ষিণ দিকের লাইন দোয়েল চত্বর পর্যন্ত আর উত্তর দিকের লাইন চারুকলা পর্যন্ত ছিল। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েই মানুষ প্রাণের এ মেলায় প্রবেশ করেছেন।

বাংলা একাডেমি চত্বরের বাইরে আশপাশের এলাকাজুড়ে শনিবার বসেছিল বারোয়ারি মেলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তাজুড়ে চুড়ি, ফিতা, খেলনাপাতি, মাটির দ্রব্য আর নানা রকম মণ্ডা-মিঠাইয়ের পসরা সাজিয়ে মেলা জমিয়েছেন বিক্রেতারা।

মানুষের স্রোত বয়ে গেছে বইমেলার বহিরাঙ্গনেও। ফুটপাতে বসে অনেকেই জমিয়ে তুলেছেন সঙ্গীতের আসর। এ দেশের শহীদ দিবসে মানুষের ঢল দেখে অভিভূত হয়েছেন মেলায় আসা বিদেশিরা। বাঙালির ভাষাপ্রেম দেখে তারাও উদ্দীপিত হয়েছেন নিজ নিজ ভাষার প্রতি ভালোবাসায়।

দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কথা হয় ভিনদেশি নাগরিক ফ্রান্সিস রোজারিওর সঙ্গে। তার মুখে অঙ্কিত ছিল বাংলা বর্ণমালা। বেসরকারি একটি সংস্থার কাজে তিনি এদেশে এসেছেন। বললেন, বাংলা ভাষা এখন আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবেও স্বীকৃত। কম বেশি অনেক দেশেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।

শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে তিনি বই মেলায় এসেছেন বলে জানান। হাতে বাংলা একাডেমির অভিধান শোভা পাচ্ছিল এ বিদেশির। মেলা ঘুরে কিছু বই কিনবেন বলেও জানালেন।

এতো ভিড়েও বই কেনার চেয়ে ঘোরাঘুরিটাই বেশি হয়েছে। তবে বই ক্রেতার উপস্থিতিও নেহাত কম ছিল না। তারা ঠিকই স্টলে স্টলে ঘুরে পছন্দের লেখকের বই নিয়ে ঘরে ফিরেছেন। ভিড়ের তুলনায় আশানুরূপ বিক্রি হয়নি—এ বক্তব্য ছিল প্রকাশকদের।

ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের স্বত্ত্বাধিকারী জহিরুল আবেদীন জুয়েল বাংলানিউজকে বলেন, যতো মানুষ মেলায় আসেন তাদের সবাই যে বই কেনেন, তা নয়। মানুষের তুলনায় বই বিক্রি না হলেও বই নিয়ে মানুষের আবেগের বহির্প্রকাশ ঘটেছে।

একুশের আয়োজন
শনিবার সকাল ৮টায় সর্বসাধারণের জন্য খোলা হয় বইমেলার দুয়ার। চলবে রাত ৯টা পর্য্যন্ত। অমর একুশে উপলক্ষে বাংলা একাডেমির আয়োজনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। সভাপতিত্ব করেন কবি অসীম সাহা।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের মেলামঞ্চে বিকেলে ‘ভদ্রলোক-রাজনীতি ও শ্রেণিচেতনার আলোকে ভাষা-আন্দোলন’ শীর্ষক একুশে স্মারক বক্তব্য রাখবেন ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক। সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

সন্ধ্যায় মেলামঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

** শহীদ মিনার থেকে সোজা বই মেলায়
** বইয়ের পাতায় একাত্তর

বাংলাদেশ সময়: ১৪৪৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৫

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa